মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে তেল খাতের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এক্সন মোবিল এবং শেভরনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে “অতিরিক্ত অর্থ” উপার্জন করছে। এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে জ্বালানি খাতের রেকর্ড মুনাফা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দাম বৃদ্ধির ফলে তেল কোম্পানিগুলোর আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে এই উইন্ডফল বা অপ্রত্যাশিত মুনাফা এখন রাজনৈতিক ও পরিবেশগত মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে অনেকে জ্বালানি খাতের প্রতি ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

প্রশ্ন হচ্ছে, এই বিপুল অর্থ দিয়ে ঠিক কী করবে তেল জায়ান্টগুলো? বিশ্লেষকদের মতে, কোম্পানিগুলোর সামনে কয়েকটি বড় পথ খোলা রয়েছে। শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ বাড়ানো, নিজেদের শেয়ার পুনঃক্রয় করা, অথবা নতুন খনি ও ড্রিলিং প্রকল্পে বিনিয়োগ করা — এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে তারা। তবে পরিবেশবাদীরা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করছেন, এই মুনাফার একটি বড় অংশ যেন নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ব্যয় করা হয়।

ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে এখনো এক্সন মোবিল বা শেভরনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক চাপের মুখে কোম্পানিগুলো তাদের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে পারে। অন্যদিকে, জ্বালানি খাতের কিছু বড় খেলোয়াড় ইতিমধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যদিও সমালোচকদের মতে সেই প্রচেষ্টা এখনো পর্যাপ্ত নয়।

এদিকে, তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়ও প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বড় তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফার এই ঢেউ আগামী দিনে কী আকার নেয়, সেদিকে নজর রাখছে বিশ্বব্যাপী বাজার। একই সঙ্গে, সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে কোনো নতুন পদক্ষেপ আসে কি না, তাও এখন দেখার বিষয়।