যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত জানিয়েছে, মেটা প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি নিয়ে দায়ের করা হাজার হাজার মামলা এগিয়ে নেওয়ার পথে এখন আর কোনো বাধা নেই। এই মামলাগুলোতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, কিশোর-কিশোরীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্ত করার জন্য মেটা তাদের প্ল্যাটফর্মগুলোকে এমনভাবে ডিজাইন করেছে যা ক্ষতিকর।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কমিউনিকেশনস অ্যাক্টের ২৩০ ধারাকে প্রতিরক্ষা হিসেবে ব্যবহার করে মেটা যে আপিল দায়ের করেছিল সেটি প্রক্রিয়ার খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে করা হয়েছিল বলে তা অগ্রাহ্য করা হয়েছে। মূলত, মামলার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই এই আপিলটি করা হয়েছিল, তাই আদালত মনে করেছে এই পর্যায়ে ২৩০ ধারার ভিত্তিতে আপিলের সুযোগ নেই।

বিচারকরা বলেছেন, কোম্পানিগুলো যখন কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় আসামি হিসেবে জড়ায়, তখন তারা যে প্রতিরক্ষা ব্যবহার করতে চায়, তা মামলার গুণগত বিচারের সময়ই তুলতে পারে। এই ক্ষেত্রে মেটা তাদের আপিল খুব তাড়াতাড়ি দাখিল করেছে, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে মামলাগুলো এখন নিম্ন আদালতে ফেরত যাচ্ছে এবং সেখানে বিচারকাজ চলবে।

এই মামলাগুলোর বেশিরভাগই এসেছে বিভিন্ন রাজ্যের বাবা-মা এবং অভিভাবকদের পক্ষ থেকে, যারা দাবি করেছেন যে মেটার ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক প্ল্যাটফর্মগুলো কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। আদালতের এই রায়ের ফলে মেটার জন্য নতুন করে আইনি সংকট তৈরি হলো, যদিও কোম্পানিটি আগেও বলেছে যে তারা তাদের প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিরাপদ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই রায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কোম্পানিগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে, কারণ ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলায় তাদের প্রতিরক্ষা কৌশল আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তবে এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বলা যাচ্ছে না, কারণ মামলাগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আইনি লড়াই চলবে।