প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে আমেরিকানদের সুখের মাপকাঠি প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। ১৯৭২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জেনারেল সোশ্যাল সার্ভেতে ‘খুব সুখী’ ও ‘মোটেও সুখী নয়’-এর মধ্যে ভারসাম্য প্রায় স্থির ছিল। কিন্তু মহামারি শুরুর সঙ্গে সঙ্গে সেই ভারসাম্য ধসে পড়ে। শিকাগো ইউনিভার্সিটির বুথ স্কুল অব বিজনেসের অর্থনীতিবিদ স্যাম পেল্টজম্যান বেশ কয়েক বছর ধরে এই সংখ্যা পর্যবেক্ষণ করছেন। ফরচুনকে তিনি জানান, এটি বিশাল পরিবর্তন এবং আশা করা যায় এটি ফিরে আসবে, তবে এখন পর্যন্ত নিট মাইনাস ২০-এর মতো, যা সম্পূর্ণ নজিরবিহীন।

২০২০ সালে সুখের মাপকাঠি ২৫ পয়েন্ট কমে যায়, কিন্তু পরবর্তীতে তা মাত্র ৫ পয়েন্ট পুনরুদ্ধার হয়েছে। পেল্টজম্যান এটিকে ২০০৮ সালের মহামন্দার সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা সর্বোচ্চ ১০ পয়েন্ট কমেছিল এবং দ্রুত ফিরে এসেছিল। প্রথম দিকে এজন্য অর্থনীতিকে দায়ী করা হলেও পেল্টজম্যান বলছেন, বিষয়টি এত সরল নয়। মুদি ও জ্বালানির দাম বাড়লেও, যদি সবচেয়ে অসুখী মানুষরা সবচেয়ে বেশি চাপে থাকত, তবে জীবনযাত্রার সংকটকে দায়ী করা যেত। কিন্তু পেল্টজম্যানের তথ্য বলছে উল্টো। ২০২০ সালের পর যাদের সুখ সবচেয়ে বেশি কমেছে তারা হলেন সাদা, উচ্চ আয়ের, কলেজ-শিক্ষিত এবং ডানপন্থী আমেরিকানরা। তিনি বলেন, জীবনযাত্রার খরচের সমস্যা উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য নয়, এটি নিম্ন আয়ের মানুষের উদ্বেগ। অথচ সুখের এই ধসে উচ্চ আয়ের মানুষেরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

তিনি আরও বলেন, যে ব্যাখ্যাগুলো বৈষম্যকে দায়ী করে সেগুলো তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ‘আমরা বিবাহের ভিত্তিতে সুখ-বিভক্ত একটি সমাজে বাস করছি।’ বিবাহিত ব্যক্তিরা এখনও সামগ্রিকভাবে সুখী, কিন্তু প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৪৫ শতাংশ অবিবাহিত মানুষ এখন সামগ্রিকভাবে অসুখী। যাদের সুখের স্পষ্ট ইতিবাচক ভারসাম্য রয়েছে তারা কেবল বিবাহিত ব্যক্তিরা। বিবাহের হার নিজেই গত ১৫ বছরে অপরিবর্তিত (৫৫/৪৫), তাই এই পতন বিবাহের হার কমার কারণে নয়। বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশক থেকে ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে বিবাহের হার কমেছিল এবং পেল্টজম্যানের আগের গবেষণায় দেখা গেছে, মহামারির আগে সুখের পতনের বেশিরভাগ অংশই এর জন্য দায়ী ছিল। কিন্তু সেই পতন ২০২০ সালের অনেক আগেই থেমে গিয়েছিল।

উভয় গোষ্ঠীই আঘাত পেলেও অবিবাহিতরা কিছুটা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিবাহিত উত্তরদাতাদের সুখের মাত্রা প্রায় +৩০ থেকে +৫০-এ উন্নীত হয়েছে, অন্যদিকে অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে এটি প্রায় শূন্যের কাছাকাছি থেকে -১৫-তে নেমে এসেছে। তবে পেল্টজম্যান সতর্ক করে বলেন, এর থেকে কারণ-প্রভাব সম্পর্ক অনুমান করা যাবে না। ২০২৫ সালের ‘দ্য অ্যানাটমি অব ম্যারিটাল হ্যাপিনেস’ শীর্ষক আরেকটি গবেষণায় তিনি দেখেছেন, এই বিবাহজনিত সুখের সুবিধা প্রায় সব ক্ষেত্রেই বিদ্যমান — বয়স, জাতি, আয়, শিক্ষা ও যৌন অভিমুখিতায়। সহবাসকারী দম্পতিরাও একই রকম সুবিধা পান, তবে তা কিছুটা কম, প্রায় ১০ পয়েন্ট। তিনি বলেন, সুখী মানুষ বিবাহ করে এবং বিবাহিত মানুষ সুখী হয়ে ওঠে। তাই এতে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

ইনস্টিটিউট ফর ফ্যামিলি স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো ও ‘গেট ম্যারিড ইনিশিয়েটিভ’ পরিচালক ব্র্যাড উইলকক্স বলছেন, তরুণরা মুদ্রাস্ফীতি ও আবাসন খরচকে আমেরিকান ড্রিমের প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখায়, অর্থনৈতিক হতাশা অসুখের একটি সম্ভাব্য কারণ। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচকতা এবং সামাজিকীকরণ, ডেটিং ও বিবাহে পতন এই সুখ-ধসে আরও বড় ভূমিকা রেখেছে। কারণ সাম্প্রতিক দশকগুলোতে তরুণদের অর্থনৈতিক অবস্থানের চেয়ে সামাজিক সম্পর্ক অনেক বেশি কমেছে। একই তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি আইএফএসের চার্ট দেখায়, ২০০০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রতিটি বয়স গোষ্ঠীর অসুখের হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে ছিল। কিন্তু ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে তা বেড়ে ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে মধ্যবয়সীদের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ এবং ৫৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ২১ শতাংশ। পেল্টজম্যান মনে করেন, তরুণরা খুব অস্থির একটি গোষ্ঠী।

তার গবেষণায় আরেকটি বিষয় সুখের সঙ্গে সমান্তরালভাবে পরিবর্তিত হয়েছে: আমেরিকানরা বিশ্বাস করে কিনা যে অন্য লোকেরা তাদের সাথে ন্যায্য আচরণ করে। সেই সংখ্যাটিও একই বছরে একই মাত্রায় কমেছে। পেল্টজম্যান বলেন, মনে হচ্ছে সামাজিক আঠা ভেঙে পড়ছে।