গবেষণা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সমাজমুখী করতে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে (এসইউবি) 'রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন ডিপার্টমেন্ট' নামে নতুন একটি বিভাগ চালু করা হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই বিভাগের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। যুক্তরাজ্যের ব্রাউন ইউনিভার্সিটি অ্যালফার্ট মেডিক্যাল স্কুলের অধ্যাপক রুহুল আবিদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে নতুন বিভাগটির উদ্বোধন করেন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তৃতায় বলেন, গবেষণার আসল লক্ষ্য কেবল নতুন জ্ঞান সৃষ্টি বা প্রকাশনা নয়; বরং তা বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতিতে সহায়ক হওয়া উচিত। তিনি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের প্রাসঙ্গিক, প্রমাণভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী গবেষণায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি 'রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন ইন ইমপ্রুভিং ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড হেলথ কেয়ার ডেলিভারি সার্ভিস' শীর্ষক একটি বিশেষ উপস্থাপনাও দেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রেসিডেন্ট ও ল্যাবএইড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ এম শামিম। তিনি বলেন, গবেষণার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এমন জ্ঞান ও উদ্ভাবন সৃষ্টি করা। বিশ্ববিদ্যালয়ে শক্তিশালী গবেষণা সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়া, জ্ঞানচর্চা এবং গবেষণামূলক কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে সমাজে অর্থবহ পরিবর্তন আনা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার মধ্যেই প্রকৃত সার্থকতা নিহিত।
আলোচনায় আরও অংশ নেন অধ্যাপক এম এ রশিদ, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও এসইউবির ফার্মেসি বিভাগের উপদেষ্টা। এছাড়া বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এবং স্টেট কলেজ অব হেলথ সায়েন্সেসের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আফজালুর রহমান।
সমাপনী ভাষণে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক মো. হাসান কাউসার আশা প্রকাশ করেন যে, নবপ্রতিষ্ঠিত এই বিভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করবে। তিনি বলেন, এটি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মধ্যে আন্তবিভাগীয় সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ বিভাগের মাধ্যমে মানসম্মত গবেষণা, আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনা ও জ্ঞান বিনিময়ের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণালব্ধ জ্ঞান সমাজ, শিল্পখাত, স্বাস্থ্যসেবা ও জাতীয় উন্নয়নে বাস্তব ও ইতিবাচক অবদান রাখবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, প্রক্টর, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, গবেষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


