বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক এক চিত্রপ্রদর্শনীকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা করেছেন। আজ বুধবার সকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই প্রদর্শনীকে ‘ছোটলোকি’ আখ্যা দেন এবং অভিযোগ করেন যে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল ইচ্ছাকৃতভাবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করে দেখানোর পাশাপাশি ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।
রিজভী উল্লেখ করেন, ‘সাতচল্লিশ থেকে জুলাই’ শীর্ষক সেই প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের চিত্র থাকলেও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার কোনো স্থান দেওয়া হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “একাত্তর, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যে নামটি অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান—তাঁকে মুছে ফেলার গভীর চক্রান্ত চলছে। কাকে খুশি করতে চাইছে? নিশ্চয়ই পলাতক ফ্যাসিস্টকে খুশি করার জন্যই কি এই কাজগুলো করছেন?”
প্রদর্শনীতে দাঁড়িপাল্লার মাধ্যমে একাত্তরকে হালকা ও জুলাই-২৪-কে ভারী দেখানোর যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, সেটির সমালোচনা করে বিএনপি নেতা বলেন, “এগুলো হচ্ছে ছোটলোকি। প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে, প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনারা জনগণের সঙ্গে শত্রুতা করেছেন। একাত্তর, নব্বই, ছিয়াশি—সব সময় আপনারা জনগণের বিরুদ্ধে ছিলেন। তাই এখন জুলাইকে পুঁজি করতে চাইছেন।”
বনানী কবরস্থানে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিন উপলক্ষে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রিজভী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে আরাফাত রহমান কোকোর অবদান স্মরণ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একান্ত সহকর্মী ও সতীর্থ হিসেবে যোগ্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী তাঁর আরাধ্য কাজগুলো সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করতে পারবেন। এটা সুসম্পন্ন হলেই আরাফাত রহমান কোকোর আত্মা শান্তি পাবে।” তিনি ক্রীড়াভিত্তিক একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আচরণের সমালোচনা করে রিজভী অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে থাকতে এবং খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা মুছে দিতে নানা কৌশল অবলম্বন করেছেন। তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমানের পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য শেখ হাসিনা এমন কোনো কাজ নেই, যা করেননি। মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের কোনো অবদান নেই—না তার পিতার, না তার নিজের। তারা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম ও জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনা কখনোই মেনে নিতে পারেননি বলেই তার পরিবারকে বারবার নিপীড়ন করা হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, “চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে গিয়েছিলেন, আর আজ জনগণের ধাওয়া খেয়ে শেখ হাসিনাকে পালিয়ে যেতে হয়েছে। সেই তারেক রহমান এখন অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী।”




