স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে রংপুর নগরীতে জামায়াতে ইসলামী বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করে। মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে নগরীর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ থেকে মিছিলটি যাত্রা শুরু করে। পথিমধ্যে এটি সিটি বাজার, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, প্রেসক্লাব এবং গ্র্যান্ড হোটেল মোড় হয়ে শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সভাও অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খান। পরিচালনায় ছিলেন মহানগর সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক (কাজল)। বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক। মিছিলে মহানগর আমির এ টি এম আজম খান, সেক্রেটারি কাজল, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক, অ্যাসাইনমেন্ট সেক্রেটারি মাওলানা আবদুল গনি, কোতোয়ালি থানা আমির মাওলানা গোলাম কিবরিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

আজম খান তাঁর বক্তব্যে মন্ত্রীর মন্তব্যকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মন্ত্রীর কথায় এমন ধারণা পাওয়া যায় যে রংপুরের নাগরিকরা বিএনপির পরিবর্তে জাতীয় পার্টি বা জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নেওয়ায় এই অঞ্চল প্রত্যাশিত অগ্রগতি থেকে দূরে রয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের মন্তব্য রংপুরবাসীর রাজনৈতিক সচেতনতা, স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগ এবং সাংবিধানিক অধিকারকে খর্ব করে। কোন রাজনৈতিক দলকে ভোট দেওয়া হবে, সেটি জনগণের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। উন্নয়নের সঙ্গে কোনো অঞ্চলের মানুষের রাজনৈতিক পছন্দের সম্পর্ক স্থাপন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের দায়িত্ব হলো দলমত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার ও সুষম অগ্রগতি নিশ্চিত করা। তিনি আরও বলেন, রংপুরের দীর্ঘস্থায়ী বৈষম্য দূরীকরণে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, শিল্পখাতের প্রসার, শিক্ষাও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। সভা থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক আনুগত্যের সঙ্গে উন্নয়নকে সংযুক্ত না করে রংপুরের মানুষের ন্যায্য দাবিদাওয়া পূরণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। মিছিল ও সমাবেশ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয় যে, ভোটাধিকার ও উন্নয়নের মধ্যে কোনো শর্তারোপ করা চলবে না।

উল্লেখযোগ্য যে, গত রোববার রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন যে রংপুরের লোকেরা সব সময় পিছিয়ে পড়েন। তাঁর প্রশ্ন ছিল, কেন এমন হয়? তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপি সরকার এলে স্থানীয়রা জাতীয় পার্টি কিংবা জামায়াতকে বেছে নেন; ফলে উন্নয়ন সম্ভব হয় না। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, এ অবস্থায় কীভাবে অগ্রগতি হবে? তাঁর এই মন্তব্যের পর রংপুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা শুরু হয়। প্রতিবাদ জানাতে গতকাল মঙ্গলবার রাতে জামায়াতের ১১ জন সংসদ সদস্য সংবাদ সম্মেলন করেন। তাঁরা স্পষ্ট করেন, রংপুরের মানুষের ভোটের অধিকার গণতান্ত্রিক। কোনো অঞ্চলের মানুষের রাজনৈতিক পছন্দকে উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে দাঁড় করানো যায় না।