ঘুমের সময় বালিশ ব্যবহার না করার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মনে কৌতূহল তৈরি করে আসছে। অনেকে মনে করেন বালিশ ছাড়া ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, আবার অনেকে একে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন। এই বিষয়ে সঠিক ধারণা পেতে এর বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা জরুরি।
বালিশের প্রধান কাজ হলো ঘাড় ও মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বিন্যাস বজায় রাখা, যা শরীরের সঠিক অঙ্গবিন্যাস নিশ্চিত করে। তবে ঘুমের ভঙ্গি অনুযায়ী বালিশের প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন হতে পারে। যারা উপুড় হয়ে ঘুমান, তাদের ক্ষেত্রে বালিশ ছাড়া ঘুমানো কিছুটা সুবিধাজনক হতে পারে। রচেস্টার ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, উপুড় হয়ে শোয়ার ফলে মেরুদণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। সে অবস্থায় মাথার নিচে বালিশ না থাকলে ঘাড় তুলনামূলকভাবে সোজা থাকে, যা ঘাড়ের ওপর চাপ কমাতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা এই ভঙ্গিতে পেট ও পেলভিসের নিচে একটি পাতলা বালিশ রাখার পরামর্শ দেন, যাতে শরীরের অবস্থান আরও স্বাভাবিক থাকে।
অন্যদিকে, যারা চিত হয়ে বা কাত হয়ে ঘুমান, তাদের জন্য বালিশ ছাড়া ঘুমানো মোটেই নিরাপদ নয়। এতে মেরুদণ্ড, ঘাড়, জয়েন্ট ও পেশির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, যার ফলে ঘাড়ব্যথা, পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া ও মাথাব্যথার ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেকের ধারণা, বালিশ ছাড়া ঘুমালে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে, কিন্তু এই ধারণার পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে সিল্কের বালিশের কভার চুলের জন্য উপকারী—এমন দাবিও গবেষণায় সমর্থিত হয়নি।
বালিশ ছাড়া ঘুমানোর কিছু সম্ভাব্য উপকার থাকলেও তা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। ঘুম থেকে ওঠার পর নিয়মিত ঘাড়ে বা পিঠে ব্যথা হলে বালিশ ছাড়া ঘুমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ ঘাড়ব্যথা কমাতে উপযুক্ত বালিশের ধরন নিয়ে গবেষণা চলছে, এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
সব মিলিয়ে, বালিশ ছাড়া ঘুমানো সবার জন্য উপযোগী নয়। উপুড় হয়ে ঘুমানো ব্যক্তিরা এর থেকে কিছুটা উপকার পেতে পারেন, কিন্তু অন্যদের জন্য এটি ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই নিজের ঘুমের অভ্যাস ও শারীরিক সমস্যা বিবেচনা করে এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়েই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া নিরাপদ।




