চট্টগ্রাম জেলার রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত এক অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মো. ইলিয়াস ওরফে ‘ধামা ইলিয়াস’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তিকে সোমবার ঢাকা থেকে আটক করা হয়। তিনি কুখ্যাত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ অনুসারী বলে জানা গেছে।
গত ১৩ জুন বেলা দেড়টার দিকে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। মাসুদুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন এবং পরবর্তী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে অস্ত্রহাতে ইলিয়াসকে দেখা গেছে।
গ্রেপ্তারের পর পুলিশ ইলিয়াসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করে। মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাখাওয়াত হোসেন শুনানি শেষে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। চট্টগ্রাম জেলা কোর্ট পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ইলিয়াসকে আদালতে হাজির করা হয় এবং পরে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী ১৫ জুন রাউজান থানায় মামলা করেন। মামলায় বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী মোহাম্মদ রায়হান, মোহাম্মদ ইলিয়াস, মোহাম্মদ মোবারক, দিদারুল আলম, মোহাম্মদ ইউসুফসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও আটজনকে আসামি করা হয়।
পুলিশের ধারণা, কর্ণফুলী নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়, মাসুদুল হককে প্রথমে গুলি করেন ইলিয়াস ও দিদারুল। এরপর ইউসুফ, জাহেদ ও আবছার দৌড়ে গিয়ে আরও কয়েকটি গুলি ছোড়েন। হত্যায় অংশ নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে একজনের মুখে কালো মুখোশ থাকলেও অন্যদের চেহারা সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে। তাদের মধ্যে তিনজনের হাতে পিস্তল এবং দুজনের কাছে শটগান ছিল।
ঘটনাস্থল রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাত্র কয়েক শ গজ দূরে অবস্থিত। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মাসুদুল হক দৌড়াচ্ছেন এবং পেছনে অস্ত্রধারীরা। হঠাৎ একটি মোটরসাইকেলে ধাক্কা লেগে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে পেছনের অস্ত্রধারীরা তাকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি চালায়। প্রথম দফায় গুলি করে চলে যাওয়ার ৪০-৫০ সেকেন্ড পর তারা ফিরে এসে আবার গুলি করে এবং পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পালিয়ে যায়। দিনদুপুরে বাজারে এই ঘটনা ঘটলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে ২৫টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৮টি রাজনৈতিক বিরোধ থেকে সংঘটিত হয়েছে। একই সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ।




