ভারতের অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলায় চীনা সেনাদের অনুপ্রবেশের খবর নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সীমান্ত এলাকায় এমন পরিস্থিতির কারণে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সম্প্রতি দাবি করা হয়েছে, চীনা সেনারা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) অতিক্রম করে তাকসিং সার্কেলের পুকার লা ও ওলোর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান নিয়েছে।

গত সপ্তাহে অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুকে এ বিষয়ে জানানো হলে তিনি অনুপ্রবেশের খবরটি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী দক্ষতার সঙ্গে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে এবং ভারতীয় ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। তবে প্রকৃত ঘটনা জানতে তিনি সেনাবাহিনী ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।

মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ওই এলাকায় শান্তি বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি। তিনি সীমান্ত ইস্যুতে হওয়া আলোচনার বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, ভারত সবসময়ই চীনের সঙ্গে সীমান্ত আলোচনায় শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিয়ে থাকে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সীমান্ত পরিস্থিতির প্রভাব দুই দেশের সার্বিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর পড়বে।

জয়সোয়াল আরও জানান, ৬ আগস্ট ভারত-চীন সীমান্ত সংক্রান্ত পরামর্শ ও সমন্বয় ব্যবস্থার (ডব্লিউএমসিসি) ৩৬তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে দুই পক্ষ খোলামেলা আলোচনা করেছে এবং অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানে সম্মত হয়েছে। উভয় পক্ষ ডব্লিউএমসিসি এবং স্থানীয় কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকসহ বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক চ্যানেলগুলো ব্যবহার অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ‘ভুল বোঝাবুঝি ও ভুল হিসাব’ এড়াতেই এই যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হবে।

এর আগে অরুণাচলের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তনের চেষ্টা করছে চীন। এর জবাবে গত সপ্তাহে ভারত সরকারি মানচিত্রে অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি স্থান ও নিদর্শনের মানসম্মত নাম প্রকাশ করে। ভারতের এই পদক্ষেপে আপত্তি জানিয়ে চীন বলেছে, তারা অরুণাচল প্রদেশকে স্বীকৃতি দেয় না। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, ভারত তাদের তথাকথিত মানসম্মত নাম প্রকাশ করে চীনের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত নামগুলো বদলানোর চেষ্টা করছে, যা বেআইনি ও ভিত্তিহীন। মঙ্গলবার ভারতের পক্ষ থেকে এর কড়া জবাব দিয়ে রণধীর জয়সোয়াল পুনর্ব্যক্ত করেন যে, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের একটি ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’।