পেটের অসুখ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা চিকিৎসকের কাছে ছুটে চলেছেন এক ব্যক্তি। দেশ-বিদেশের বহু পরামর্শ নিয়েও যখন লাভ হলো না, তখন বন্ধু টিটন চক্রের মাধ্যমে খোঁজ পেলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক কুদরত-ই আশেক এলাহীর। তবে তার কাছে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া যাবে প্রায় এক বছর পর, আর খরচটাও শুনে চোখ কপালে ওঠার মতো। বন্ধুর যোগাযোগের সুবাদে মাত্র এক মাসে তিন হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিলল, আরও দুই হাজার বাড়ালে এক সপ্তাহে পাওয়া যেত বলে জানালেন তিনি।

রাত বারোটার দিকে ডাক্তারের চেম্বারে ঢুকে চোখ আটকে যায় অসংখ্য কাউন্টার আর ব্যাংকের মতো পরিবেশে। পরে জানতে পারেন, ওঁরা সবাই ডাক্তার। সামনে বসা ব্যক্তি অবশ্য কুদরত-ই আশেক এলাহী নন, তাঁর সহকর্মী ডা. জামসেদ আলী। তিনি জানালেন, প্রথমে তাঁরা দেখেন, রোগীর অবস্থা সংকটজনক হলেই কেবল স্যার দেখেন। এই কথা শুনে রোগীর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে — মানে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থাও কি সংকটজনক! খরচের রসিদ দেখে অজ্ঞান হয়ে যান তিনি, আর চিকিৎসার জন্য সব টাকা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দিয়ে বাসায় ফেরেন।

বাসায় এসে কারেন্ট বিলের নোটিশে আঁতকে ওঠেন। দারোয়ান জানাল, সবার বিলই বেড়েছে, কারও কারও তো মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার অবস্থা। ঠিক তখনই পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা গেল, পাকস্থলীতে ছিদ্র হয়েছে, জলদি অপারেশন প্রয়োজন। ডাক্তার অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিতে বললে তিনি জানান, আগে কারেন্ট বিল দেবেন। অপারেশন করালে সুস্থ অবস্থায় গরম আর অন্ধকারে থাকতে হবে, আর বিল দিলে অসুস্থ অবস্থায় ফ্যানের নিচে আলোতে থাকা যাবে। এমনকি তিনি ডাক্তারকে পরামর্শ দেন, পাকস্থলীতে ৫ ওয়াটের লাইট লাগিয়ে দিতে — যাতে খাবার অন্ধকারে পথ ভুলে অন্য জায়গায় না যায়। ডাক্তার অবাক হয়ে শুধু তাকিয়ে থাকেন।

এরপর অপরাধবোধে ডুবে থাকা রোগী আবারও টিটন চক্রের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে ডাক্তার কুদরত-ই আশেক এলাহীর দেখা পান। তাঁকে জানান, লাইট লাগানোর আইডিয়াটা ভুল ছিল। তিনি বোঝান, কারেন্ট বিলের বোঝা সামলাতে গিয়ে অ্যাকাউন্ট ফুটা হয়ে যাবে, আর প্রধানমন্ত্রীর পেটেও যদি এমন লাইট লাগে, তাহলে তো তিনিও বিপদে পড়বেন। ডাক্তার হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকলে তিনি বলেন, যুক্তিবিদ্যার ভাষায় টেবিল ছুঁয়েছি, টেবিল মাটি ছুঁয়েছে, মানে আমি মাটি ছুঁয়েছি — কারণ আপনি তো স্বমাপ্রডাবক!