বাংলাদেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে আলোচনা যখন নতুন মাত্রা পেয়েছে, তখনই ফিরে এসেছে ২০১৯ সালের লবণ সংকটের গুজবের স্মৃতি। ওই বছর গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে দেশে আর লবণ পাওয়া যাবে না, আর পাওয়া গেলেও প্রতি কেজি ২০০ টাকা হবে। সেই গুজবের প্রভাবে দেশজুড়ে শুরু হয় লবণ মজুতের হিড়িক। ফেসবুকে একের পর এক পোস্টে মানুষকে লবণ কিনে রাখার পরামর্শ দিচ্ছিলেন অনেকে। একজন বুদ্ধিজীবী বড় ভাইকে দেখা গেছে প্রতিবাদী স্ট্যাটাস দিতে, সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন—যে যেভাবে পারেন লবণ কিনে রাখুন, নইলে পরে লবণ আনতে পান্তাও জুটবে না। সেই সময় এলাকার দোকানগুলোতে লবণ কিনতে লাইনের পর লাইন দেখা গিয়েছে। একজন ব্যক্তি নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে জানান, তাঁর আম্মা ও আব্বাও সেই গুজবে প্রভাবিত হয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। আম্মা ফোন ধরে জানান, লাইনে আছেন, পরে ফোন দেবেন। আব্বা পাশের এলাকার দোকানের লাইনে। শেষ পর্যন্ত সেবার তিন গুণ দামে যে লবণ কেনা হয়েছিল, তা ২০২৬ সালেও শেষ করা সম্ভব হয়নি। সেই অভিজ্ঞতার স্মৃতি এখন টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের খবরে আবারও জেগে উঠেছে। এলাকার একটি হোটেলের নষ্ট তেলে ভাজাপোড়া খেয়ে, প্লাস্টিকের ওয়ানটাইম গ্লাসে চা পান করতে করতে এক বন্ধু বলছিলেন, 'কী খেয়ে বাঁচব আমরা, পেস্টেও প্লাস্টিক!' তিনি জানান, দাঁত মাজার সময় অনেকে পেস্ট খেয়ে ফেলে, বিশেষ করে শিশুরা। এই যুক্তিতে তিনি নিমের দাঁতনের দিকে ঝোঁকেন। দুই বন্ধু মিলে ভালো দোকান থেকে নিমের দাঁতন কিনে আনেন, কিন্তু সেগুলো প্লাস্টিকের বাক্সে প্যাকেট করা ছিল। এদিকে টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্লাস্টিকের বোতলের পানিতে লিটারপ্রতি ২ লাখ ৪০ হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে। আর টুথপেস্টের ক্ষেত্রে এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সর্বোচ্চ ৩০০ মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া যায়। বক্তা শেষে মন্তব্য করেন, 'বেঁচে থাকতে হবে, এই ক্ষেত্রে নো কম্প্রোমাইজ।' তবে প্লাস্টিক প্যাকেটিংয়ের কারণে নিমের দাঁতনও এখন প্রশ্নের মুখে।