যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক সমাবর্তনে বক্তব্য দিতে গিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিজস্ব তিনটি নীতির কথা জানিয়েছেন গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই। তিনি বলেন, জীবনের নানা জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই তিনটি ‘ছাঁকনি’ তাকে সবসময় সাহায্য করে আসছে।
প্রথম নীতিটি হলো আশাবাদী থাকা। পিচাই মনে করেন, বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যেও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি বেছে নেওয়ার অধিকার আমাদের রয়েছে। তিনি নিজের শৈশবের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ভারতের চেন্নাইয়ে বেড়ে ওঠার সময় পানির অভাবে কিংবা প্রযুক্তির ধীরগতিতে তিনি হতাশ হননি। বরং তার মা-বাবা তাকে সবকিছোর ইতিবাচক দিক দেখতে শিখিয়েছেন। স্ট্যানফোর্ডে আসার পর ক্যালিফোর্নিয়াকে তিনি শুষ্ক ও ‘বাদামি’ দেখলেও তার হোস্ট মিসেস জেন আর্ল তাকে তা ‘সোনালি’ হিসেবে দেখতে উৎসাহিত করেছিলেন। দৃষ্টিভঙ্গির এই ছোট্ট পরিবর্তনই তার জীবনকে বদলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দ্বিতীয় নীতি হিসেবে পিচাই কঠিন কাজের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। তিনি স্বীকার করেন, স্ট্যানফোর্ড ছাড়ার পর তার সাফল্য রাতারাতি আসেনি। গুগলে তার শেষ ইন্টারভিউয়ের দিনটি ছিল এপ্রিল ফুলস ডে। সেইদিন জিমেইল চালু হওয়ায় ইন্টারভিউ বোর্ডের সদস্যরা জিমেইল নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন এটি কোনো প্র্যাঙ্ক কিনা। কারণ, সেসময় প্রত্যেক ব্যবহারকারীকে ১ গিগাবাইট বিনামূল্যে স্টোরেজ দেওয়াকে প্রায় অসম্ভব মনে হতো। পরবর্তীতে গুগল ক্রোম ব্রাউজার তৈরির সময়ও তিনি একই রকম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। মাত্র ১০ জনের একটি দল নিয়ে ব্রাউজার তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই অনেকে এটিকে কঠিন মনে করেছিলেন। ২০০৮ সালে ক্রোম চালু হওয়ার পর প্রথম দিনেই ৮০ লাখ ব্যবহারকারী পেলেও এক বছর পর বাজারে তাদের শেয়ার ছিল মাত্র ২ শতাংশ। মাইক্রোসফটের তৎকালীন সিইও স্টিভ বালমার ক্রোমকে গুগলের ‘হিসাবের ভুল’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু পিচাই হাল ছাড়েননি। বরং তিনি তার দলকে আরও উদ্দীপ্ত করতে প্রতি ছয় সপ্তাহে ব্রাউজারের নতুন সংস্করণ বাজারে আনার লক্ষ্য স্থির করেন, যেখানে অন্য কোম্পানিগুলো ছয় মাস বা এক বছর সময় নিত। ধীরে ধীরে এই কৌশল সফলতা বয়ে আনে।
তৃতীয় নীতিটি হলো, যখন সব পথ একরকম মনে হবে, তখন সেই পথ বেছে নেওয়া যা আপনাকে রোমাঞ্চিত করে। পিচাই ১৯৯৩ সালে স্ট্যানফোর্ডে এসে প্রথমবারের মতো কম্পিউটারের সাথে কাজ করার সুযোগ পান। সেই সময় তিনি ইন্টারনেটকে মানবজাতির অগ্রগতির একটি মৌলিক চালিকা শক্তি হিসেবে দেখতে শুরু করেন। তিনি মনে করেন, প্রযুক্তি যেভাবে তার জীবন বদলে দিয়েছে, সেভাবে আরও অনেক মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনার অংশ হতে পারাটাই তাকে সবচেয়ে বেশি রোমাঞ্চিত করত। এই কারণেই তিনি গুগলের চাকরি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু সমাজ বা বন্ধুদের প্রত্যাশা পূরণের জন্য নয়, বরং সেই কাজটি করা উচিত যা নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত রুমমেটের সাথে উৎসাহের সাথে আলোচনা করা যায়।




