জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের ঘোষিত ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে পদযাত্রা ও জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় রোববার সন্ধ্যায় নওগাঁর পোরশা উপজেলার সারাইগাছী মোড়ে একটি পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মঞ্চ থেকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বিএনপি সরকারকে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ার করে বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে তারা সরকারের পতন ঘটাবেন। পাশাপাশি শেখ হাসিনার বিচারের দাবিও তোলেন তিনি। নাসীরুদ্দীনের ভাষ্য, যারা এখন মিডিয়ায় চিল্লাচিল্লি করছেন, মন্ত্রী-এমপি হয়েছেন, তাদের গরম দেখানোর প্রয়োজন নেই। তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, শেখ হাসিনা তো দিল্লি পালিয়েছেন, তারা কোথায় পালাবেন—বঙ্গোপসাগরে? সেখানেও জায়গা পাবেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সভ্য বাংলাদেশ গড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে নাসীরুদ্দীন বলেন, তারা যথেষ্ট ভদ্র আচরণ করছেন, তবে কেউ বেশি লাফালাফি করলে কীভাবে তাকে টেনে নামাতে হয় তা তাঁদের জানা আছে। তিনি ‘রামভূত, দিল্লির ভূত ও চাঁদাবাজির ভূত’ নামিয়ে ফেলার হুঁশিয়ারি দেন।
সম্প্রতি দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। উল্লেখ করেন, দক্ষিণবঙ্গে বন্যায় ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে শুধু নির্বাচনের আগেই খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। বন্যাকবলিত মানুষের পাশে তাঁকে দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন।
প্রতিবেশী দেশ ভারতের উদ্দেশেও কড়া বার্তা দেন তিনি। ভারতের গেরুয়া সন্ত্রাস ও আরএসএস-বিজেপির গুন্ডা বাহিনীকে হুঁশিয়ার করে নাসীরুদ্দীন বলেন, বাংলাদেশের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবাই ৪৭-এর আজাদির লড়াই, ৭১-এর যুদ্ধ, ৯০ ও ২৪-এর আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। ভারতের কোনো ষড়যন্ত্র বাংলাদেশে কখনো সফল হবে না বলে দাবি করেন তিনি। বাংলাদেশ স্বাধীন আছে এবং থাকবে, দেশের মানুষ লড়ে যাবে, তারা ভারতের সেবাদাস বা গোলাম হবে না—এমনটাই জানান তিনি।
পদযাত্রা কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মাহফুজার রহমান চৌধুরী। এ সময় আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেলসহ অন্যরা। প্রসঙ্গত, গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে ৬ জুলাই থেকে ৬৪ জেলার ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় এই মাসব্যাপী কর্মসূচি শুরু করেছে এনসিপি।



