মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর এলাকায় ৩ জুলাই রাতে আয়োজিত এক মাদকবিরোধী সমাবেশে মঞ্চভাগ করেছিলেন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহন্দার আলী মিয়া, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ এবং আলমগীর হাওলাদার হত্যা মামলার প্রধান আসামি লাভলু হাওলাদার। লাভলু জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। আলমগীর হত্যার ঘটনায় গত ১১ মার্চ লাভলুকে প্রধান আসামি করে ৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। তবে বিগত দুই মাস ধরে তাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে।

গত ১০ মার্চ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাদারীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন মাদারীপুর এলাকায় ব্যবসায়ী আলমগীর হাওলাদারকে নিজ বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর নতুন মাদারীপুর এলাকায় অন্তত ১০ বার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং শতাধিক বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়।

নিহতের স্ত্রী ও মামলার বাদী রেখা বেগম অভিযোগ করেছেন, আসামিরা প্রকাশ্যে এসে তার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। তিনি বলেন, এলাকায় তারা থাকতে পারছেন না, বাড়িঘর লুটপাট হয়েছে এবং তার একমাত্র ছেলেকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এসবের জন্য লাভলু হাওলাদারকেই দায়ী করছেন তিনি। পুলিশও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে তার অভিযোগ।

নিহতের ছেলে আল-আমিন হাওলাদার জানান, বাবার হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে তারা ঘরবাড়ি ছেড়েছেন। একজন হত্যা মামলার প্রধান আসামি জামিন ছাড়া কীভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, এমপি সাহেব লাভলুকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলেই পুলিশ তাকে আটক করছে না। তিনি শুধু বাবার হত্যাকারীদের বিচার চান।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য জাহন্দার আলী মিয়া প্রথমে জানান, তিনি ভেবেছিলেন লাভলু জামিনে আছেন এবং আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন। তিনি কোনো অপরাধীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন না বলে মন্তব্য করেন। পরে তিনি জানান, সংসদে থাকায় পরে কথা বলবেন।

লাভলু হাওলাদার মুঠোফোনে সাংবাদিককে তাঁর অফিসে সাক্ষাতের আহ্বান জানান।

ওসি আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, তিনি ব্যক্তি হিসেবে লাভলুকে চিনেন না এবং মঞ্চে কারা ছিলেন তা তাঁর মনে নেই। গ্রেপ্তারের বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মহসীন জানান, তিনি শুনেছেন লাভলু হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন, তবে কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। মামলায় ৬৮ জন আগাম জামিন নিলেও লাভলুর নাম নেই। তিনি উল্লেখ করেন, লাভলু এখনো পুলিশের কাছে পলাতক। মামলার বাদী বা পরিবারের কাছ থেকে হুমকির বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। তবে অভিযোগ পেলে নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।

সমগ্র ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নিহতের পরিবার আইনি সুরক্ষা ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে আসছে।