বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে ফ্রান্স। ডালাসের মাঠে এই পরাজয়ের পর ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এল সালভাদরের রেফারি ইভান বার্টনের সমালোচনা করে দেশম বলেন, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনার জন্য তিনি কি পর্যাপ্ত মানের ছিলেন? প্রথমার্ধে লুকাস দিনিয়ের ফাউলে স্পেনকে পেনাল্টি দেওয়ার সিদ্ধান্তই তাঁর আপত্তির মূল কারণ। তবে দেশম একইসঙ্গে স্বীকার করেছেন যে কিছু সিদ্ধান্ত ফ্রান্সের পক্ষেও গেছে।

ম্যাচের পর দেশম খেলোয়াড়দের ভেঙে পড়ার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, দলের লক্ষ্য ছিল অনেক বড়, কিন্তু বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। কৌশলগত দিক থেকে স্পেন ফ্রান্সের চেয়ে একধাপ এগিয়ে ছিল এবং ম্যাচটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই পরাজয়ের দায় কাউকে না চাপিয়ে নিজের কাঁধেই নিয়েছেন দেশম। তাঁর ভাষ্য, এটি তাদেরই ব্যর্থতা, যার জন্য তিনি অন্য কাউকে দোষ দিতে চান না।

এদিকে, এই হার দিয়েই শেষ হলো ফ্রান্সের দায়িত্বে দেশমের ১৪ বছরের অধ্যায়। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি ফ্রান্সকে একটি বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন, আরেকটি ফাইনাল ও একটি সেমিফাইনালে নিয়ে গেছেন। ইউরোতেও একবার ফাইনাল ও একবার সেমিফাইনালে উঠিয়েছেন দলকে। পাঁচটি বড় টুর্নামেন্টের মধ্যে চারটিতেই শেষ চারে ওঠা নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। তবে তাঁর হাতে একের পর এক প্রতিভাবান প্রজন্ম থাকায় মাত্র একটি শিরোপা জেতাকে অনেকে ন্যূনতম প্রত্যাশা পূরণ বলে মনে করেন।

অন্যদিকে, এই বিশ্বকাপে ফ্রান্স বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথম শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতেই তারা ছন্দ হারিয়ে ফেলে। অনেকের মতে, এদিন ফ্রান্সের আরও একটু রক্ষণাত্মক ও নিয়ন্ত্রিত ‘দেশম-ধাঁচের’ ফুটবলের প্রয়োজন ছিল। বরং এই টুর্নামেন্টে ফ্রান্সকে দেখা গেছে সৃজনশীলতা ও নান্দনিকতায় ভরপুর এক দল হিসেবে, যা ১৯৮০-এর দশকের শুরুর ফরাসি দলের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছিল। কেউ কেউ এমনকি ২০০২ সালের পরাক্রমশালী ব্রাজিল দলের সঙ্গেও তুলনা করেছিলেন। তবে সেসব তুলনা মিথ্যে প্রমাণিত করে স্পেন পাত্তাই দেয়নি ফ্রান্সকে।

পরাজয়ের পর দেশমের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন আলোচনা শুরু হয়েছে। ফরাসি ফুটবলে দেশমের অবদান নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তাঁর অর্জন অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে আপাতত এই হারের তিক্ততা হজম করতেই সময় নিচ্ছেন তিনি।