যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) সম্প্রতি এক আইনি অবস্থানে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমিকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে থাকেন, সেটি নিয়ে আপত্তির কিছু নেই। ডিওজে-র যুক্তি অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে তার অধস্তনদের কাউকে প্রসিকিউট করার নির্দেশনা দেওয়া মার্কিন সাংবিধানিক কাঠামোর স্বাভাবিক ও কাঙ্ক্ষিত প্রক্রিয়ার অংশ — এটিকে ত্রুটি হিসেবে দেখা উচিত নয়।

ডিওজে-র এই বক্তব্যে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের এমন নির্দেশনা ‘পদ্ধতিগত ত্রুটি নয়, বরং সাংবিধানিক ব্যবস্থার একটি বৈশিষ্ট্য’। অর্থাৎ, নির্বাহী বিভাগের প্রধান হিসেবে প্রেসিডেন্টের কর্তৃত্বের মধ্যে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির যুক্তি, এই ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও নীতিগত অবস্থান বাস্তবায়ন করতে পারেন, যা ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যপ্রণালী।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন জানা যায়, ট্রাম্প তার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কোমির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কোমি এফবিআই পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে এই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন আইনি জটিলতা তৈরি হলে ডিওজে-র এই সাম্প্রতিক অবস্থান প্রকাশ পায়।

ডিওজে-র এই যুক্তির সমালোচনাও হচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, প্রেসিডেন্টের এমন নির্দেশনা আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে ডিওজে তাদের জবাবে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের এমন কর্তৃত্ব রয়েছে এবং এটি কোনোভাবেই সংবিধান বহির্ভূত নয়। এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।