যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র বা সিডিসি (CDC)-র বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য কর্মসূচি বর্তমানে নামমাত্র বেঁচে থাকলেও কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে। কংগ্রেস থেকে এই কর্মসূচিগুলোর জন্য কোটি কোটি ডলার বরাদ্দ দেওয়া হলেও, কাজ করার মতো প্রয়োজনীয় কর্মী নেই। এই পরিস্থিতিকে অনেকে 'জম্বি প্রোগ্রাম' হিসেবে অভিহিত করছেন, কারণ আইনি দলিল এবং বাজেটে এগুলো সক্রিয় থাকলেও বাস্তব ক্ষেত্রে এগুলো মৃতপ্রায়।
তদন্তে দেখা গেছে, এই বছর আলঝেইমার রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির জন্য ৪১ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে, কিন্তু সেখানে কোনো কর্মী নেই। একইভাবে ধূমপান ও স্বাস্থ্য বিষয়ক অফিসের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২৪৬ মিলিয়ন ডলার, তবে সেখানকার কর্মী সংখ্যাও সংকুচিত করা হয়েছে। এছাড়া মৃগীরোগ নিয়ন্ত্রণ, সিকল সেল ডিজিজ ডেটা সংগ্রহ এবং ধর্ষণ প্রতিরোধ ইউনিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোও এখন কর্মীহীন।
এই সংকটের মূলে রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ট্রাম্প প্রশাসন সিডিসি এবং অন্যান্য ফেডারেল স্বাস্থ্য সংস্থার হাজার হাজার কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেয়। ইলন মাস্ক এবং 'ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি'-র নেতৃত্বে পরিচালিত এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য ছিল স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগকে (HHS) পুনর্গঠন করা এবং 'অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ফর এ হেলদি আমেরিকা' নামক নতুন উপ-সংস্থার অধীনে কর্মসূচিগুলোকে একীভূত করা। যদিও কংগ্রেসের বিরোধিতার কারণে এই পুনর্গঠন সম্পন্ন হয়নি, তবে ছাঁটাই প্রক্রিয়া কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে চিকিৎসা গবেষণা এবং ওষুধ অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অভিজ্ঞ বিজ্ঞানী, চিকিৎসক এবং গবেষকদের আমরা হারিয়েছি।
আইনি লড়াইয়ের কারণে কিছু ছাঁটাই করা কর্মীকে বর্তমানে প্রশাসনিক ছুটিতে রাখা হয়েছে। তারা বেতন পাচ্ছেন, কিন্তু কাজ করার অনুমতি নেই। যদিও সিডিসি-র বাজেটের বড় অংশ রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ে অনুদান হিসেবে পাঠানো হচ্ছে এবং সেই প্রক্রিয়া চালু আছে, তবে জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সমন্বয়ের অভাব প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। 'আসএগেইনস্ট আলঝেইমারস'-এর প্রধান অ্যাডভোকেসি অফিসার এরিকা সওয়ার্ড বলেন, অভিজ্ঞ কর্মী ছাড়া পুরো দেশ কার্যত অন্ধের মতো পথ চলছে এবং কোনো সুরক্ষা কবচ ছাড়াই জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলা করছে।
একটি শ্রমিক ইউনিয়ন সিডিসি-র এই অকেজো কর্মসূচিগুলোর তালিকা তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ধূমপান বিরোধী বিজ্ঞাপন ক্যাম্পেইন 'টিপস ফ্রম ফর্মার স্মোকার্স', যা স্বাস্থ্যসেবা খাতে কোটি কোটি ডলার সাশ্রয় করতে সাহায্য করত। এছাড়া গর্ভকালীন স্বাস্থ্য ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা (PRAMS) এবং ডুবে যাওয়া প্রতিরোধ কর্মসূচিসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট এখন কর্মীহীন।
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই পরিস্থিতিকে ১৯৭৪ সালের 'ইমপাউন্ডমেন্ট কন্ট্রোল অ্যাক্ট'-এর লঙ্ঘন বলে দাবি করছেন। তাদের মতে, কংগ্রেসের বরাদ্দকৃত অর্থ খরচ না করা বেআইনি। তবে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণাধীন হাউজ এবং সিনেটে এই বিষয়ে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
সম্প্রতি ড. এরিকা শোয়ার্টজ সিডিসি-র নতুন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সিনেটর টিম কেইন এবং জন ওসফসহ অনেক নেতা তাকে এই অকেজো কর্মসূচিগুলো পুনরায় চালু করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র দীর্ঘস্থায়ী রোগ মোকাবিলাকে তার প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করলেও, কর্মীহীন এসব কর্মসূচির বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। যদিও তিনি ১২ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করেছিলেন, তবে সিডিসি-তে বাস্তব নিয়োগের পরিমাণ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে আমেরিকান ফেডারেশন অফ গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ।




