ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে অঞ্চলটিতে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি হ্রাস করার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ ইরাক সফরকালে এই প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ দ্রুত কমে আসছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এখন এই অঞ্চল থেকে সম্মানজনকভাবে প্রস্থান করার পথ খুঁজছে।
বর্তমানে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জর্ডান থেকে ওমান পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০ মাইল এলাকা জুড়ে ২০টি স্থাপনায় প্রায় ৪০ হাজার সেনা মোতায়েন করে রেখেছে। এর মধ্যে বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং কুয়েতসহ বিভিন্ন উপসাগরীয় রাষ্ট্রে বিমানবাহিনী ও সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ মোতায়েন রয়েছে। তবে পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক দপ্তর এখন এই সামরিক উপস্থিতির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করছে। জয়েন্ট স্টাফ এবং ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডও এই বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। এই বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে, যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঘাঁটিগুলো পুনরায় নির্মাণ করা হবে কি না।
উল্লেখ্য, যুদ্ধের প্রারম্ভে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা থাকায় কিছু ঘাঁটি থেকে আগেই সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবায় ইরানের হামলায় ছয় মার্কিন সদস্য নিহত হন এবং সামগ্রিকভাবে দুই শতাধিক মার্কিন স্থাপনা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, কূটনৈতিক স্তরে পরস্পরবিরোধী সংকেত পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না। তবে তার উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের দাবি, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক বেশি জোরালো। ইরানও কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মনে করেন, ইরানের শর্ত মেনে কথা বলতে যুক্তরাষ্ট্র এখন মরিয়া। যদিও সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান আলোচনায় আগ্রহী হলেও একে কখনোই আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখবে না।
এর পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এছাড়া ইরানের প্রতি আর্থিক সুবিধা দেওয়ার খবরটি ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেছেন ইউএই প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৬০ দিনের প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ গত সোমবার শেষ হয়ে গেলেও, এই যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি কবে হবে তা এখনও অনিশ্চিত।




