বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক ভূঁইয়া ওরফে এনু এবং তার ভাই রুপন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের পৃথক আরেকটি মামলায় কঠোর শাস্তি দিয়েছে আদালত। গত বছর অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের এক মামলায় ইতিমধ্যে সাত বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই ভাই এবার আরও দীর্ঘ সাজার মুখে পড়লেন।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক নূরে আলম ভূঞা বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালত এনু ও রুপন প্রত্যেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি তাদের ৬৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। জরিমানার টাকা জমা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের আরও ছয় মাস কারাগারে থাকতে হবে। এ ছাড়া দুই ভাইয়ের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রায়ে।
মামলার নথি অনুযায়ী, অবৈধভাবে অর্জিত ২৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা গোপনে হেফাজতে রেখে পাচারের চেষ্টার অভিযোগে ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ওয়ারী থানায় মামলাটি করেছিলেন র্যাব-৩-এর নায়েব সুবেদার রমজান আলী। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৮ আগস্ট এনু, রুপন ও তাদের আট সহযোগীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আজ এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মো. সেলিম খান জানান, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত যথাযথভাবে রায় ঘোষণা করেছেন। তবে মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এনু ও রুপনের বাকি আট সহযোগীকে খালাস দেওয়া হয়েছে। খালাস পাওয়া ব্যক্তিরা এনু-রুপনের ঘনিষ্ঠ বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি একই আদালতে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের আরেকটি মামলায় এনু ও রুপনকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ৩৪ লাখ ২৬ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা করা হয়। সম্প্রতি সিআইডি জানিয়েছে, এনু ও রুপনের ১২৮টি ফ্ল্যাট ও ৫১ কোটি টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে। শিগগিরই ওই বিষয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।




