চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বিশাল এলাকা বর্তমানে পানির নিচে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নিচু অঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো স্থানে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি জমে গেছে। এই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে অসংখ্য মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছেন। এমন দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এক অভিনব পদ্ধতিতে উদ্ধারকার্য পরিচালনা করেছেন, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। বন্যাকবলিত চেচরিয়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় আটকে পড়া এক পরিবার থেকে আট মাস বয়সী এক শিশুকে পাতিলে করে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ২১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য কোমরসমান পানির ভেতর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এক হাতে রশি আঁকড়ে ধরে আছেন, অন্যহাতে একটি বড় পাতিল। ওই পাতিলের ভেতরে শিশুটিকে নিরাপদে রাখা হয়েছে। তাঁর পাশ দিয়ে হাঁটতে থাকা আরেক সদস্য পাতিলের ওপর ছাতা ধরে হাঁটছেন, যাতে শিশুটির গায়ে বৃষ্টির পানি না পড়ে। এই দৃশ্য দেখে অনেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন এবং ফায়ার সার্ভিসের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করছেন। বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে পানিবন্দী কয়েকজনের খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের আট সদস্যের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। সেখান থেকে আট নারী ও পাঁচ শিশুকে উদ্ধার করে স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, পানিবন্দী থাকার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তিনি আরও বলেন, সেই সময় বড় পাতিলের মাধ্যমেই শিশুটিকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়। এদিকে কক্সবাজারেও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বসতঘরের ওপর পাহাড় ধসে পড়ায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। টানা পঞ্চম দিনের মতো চলা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে ইতিমধ্যে ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা। সাধারণ মানুষও একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।