গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে দেড় মাস ধরে চিকিৎসাধীন হাতি ‘রাজু বাহাদুর’ অন্য একটি হাতির আক্রমণের শিকার হয়ে মারাত্মক আহত হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে থাইল্যান্ড থেকে বিশেষজ্ঞ বন্য প্রাণী চিকিৎসকদের একটি দল আনা হয়েছে।
সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী চিকিৎসক হাতেম সাজ্জাদ মো. জুলকার নাইন জানিয়েছেন, হাতিটির একটি পা সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে এবং অন্য একটি পায়েও মারাত্মক আঘাত লেগেছে। এই অবস্থায় সে নিজে থেকে দাঁড়াতে সম্পূর্ণ অক্ষম। বর্তমানে থাইল্যান্ডের বিশেষজ্ঞ দল ও স্থানীয় চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিক্যাল বোর্ডের নিবিড় তত্ত্বাবধানে সাফারি পার্কের হাতিশালায় এর চিকিৎসা চলছে। শুধু থাইল্যান্ড নয়, এ বিষয়ে শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথেও দূরবর্তী পরামর্শ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ‘রাজু বাহাদুর’ নামের এই হাতিটি ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট নারায়ণগঞ্জ এলাকা থেকে উদ্ধার করে। মো. আতিকুর রহমান নামের এক ব্যক্তি এটিকে অবৈধভাবে রাস্তায় ও বিভিন্ন বাজারে চাঁদাবাজির মতো কার্যক্রমে ব্যবহার করতেন। অভিযানের পর বন বিভাগ হাতিটিকে উদ্ধার করে সাফারি পার্কের হাতিশালায় স্থানান্তর করে। বর্তমানে রাজু বাহাদুরের বয়স ১০ বছরের বেশি।
পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ মে হাতিশালার অভ্যন্তরে থাকাকালীন সময়ে সাফারি পার্কেরই আবদ্ধ অন্য একটি হাতি রাজু বাহাদুরকে আক্রমণ করে বসে। প্রচণ্ড ধাক্কায় সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং পায়ে চরম আঘাতপ্রাপ্ত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই একটি ক্রেন ব্যবহার করে তাকে সেখান থেকে তুলে বালুর উপর সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকেরা তার পা ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হন।
আহত হাতিটির স্বাস্থ্যের ক্রমাগত অবনতি হতে থাকায় গত ৪ জুন দ্রুততম সময়ে থাইল্যান্ড থেকে বিশেষজ্ঞ বন্য প্রাণী চিকিৎসক দলকে ডেকে পাঠানো হয়। সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান চিকিৎসা কার্যক্রমের ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিয়ে জানান, বর্তমানে রাজু বাহাদুরসহ পুরো পার্কে মোট ১০টি হাতি অবস্থান করছে।




