জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় একটি ছাগলকে কামড়ানোর কারণে একটি কুকুরকে নির্মমভাবে গলা ফাঁস দিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় মাহমুদপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এই নৃশংস ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রাণীপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত রাজু সরকার ওই এলাকারই বাসিন্দা বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, কুকুরটি রাজুর একটি ছাগলকে কামড়ায়, যার জেরে ২৩ জুলাই তিনি বিদ্যালয়ের সামনে দড়ি দিয়ে প্রাণীটিকে গাছে বেঁধে ফাঁসিয়ে মারেন। ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর সমালোচনার মুখে রাজু সরকার আত্মগোপন করেন। তবে পরে উপজেলা প্রশাসন তাঁকে খুঁজে বের করে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়।

মেলান্দহ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাতুল আরা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘কুকুর হত্যার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আমি প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলি। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে অভিযুক্তকে পাওয়া গেল জিজ্ঞাসা করা হয়। নিজের অপরাধ মেনে নিয়ে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ভবিষ্যতে এ রকম অপরাধে জড়াবেন না এই অঙ্গীকার জানিয়ে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে তার লিখিত মুচলেকা গ্রহণ করা হয়েছে।’

জামালপুর জেলা যুবদলের সদস্যসচিব সোহেল রানা বলেন, তিনি স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে সরেজমিনে যান এবং অভিযুক্তকে শনাক্তের পর পুলিশের হাতে তুলে দেন। তাঁর ভাষায়, ‘মানুষের পাশাপাশি সকল অবলা প্রাণীর প্রতিও মানবিক আচরণ করা উচিত।’ মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম মাহমুদুল হক জানান, প্রাণিসম্পদ অফিসের অনুরোধে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং জড়িত ব্যক্তিকে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখানেই তাকে মুচলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

রাজু সরকারের পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে অবস্থান করলেও তার হদিস জানাতে পারেননি। তার পুত্রবধূ সানজানা আক্তার পুরো ঘটনাকে ভুল আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘কুকুরটি আগেও ছাগল মেরেছিল, মুরগিও খেত। ভবিষ্যতে মানুষের জন্যও হয়তো বিপদ হতে পারত। তাই রাগের মাথায় এমন ঘটনা ঘটিয়ে ফেলা হয়।’ তবে স্থানীয়দের দাবি, সমালোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজু সরকার এলাকা ত্যাগ করেছিলেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপেই তাঁকে ফেরা নিয়ে আসা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়।