ভোলার চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষার একটি কেন্দ্রে ব্যাপক ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার ফাতেমা-মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়ায় এবং নকল করার সুযোগ না দেওয়ায় পরীক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরে পরীক্ষা শেষে তারা সংঘবদ্ধভাবে কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।

ঘটনার শুরুর দিকে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা এমসিকিউ এবং লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন কমন না পড়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে। তারা নকল করার দাবি জানালে দায়িত্বরত শিক্ষকেরা বাধা দেন। এর জেরে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রে কর্মরত শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ শুরু করে এবং ট্রল করে। শিক্ষকেরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন।

ফাতেমা-মতিন মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রসচিব মহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, ‘সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক কেন্দ্রে কঠোর নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু প্রশ্ন কমন না পড়ায় শিক্ষার্থীরা নকলের দাবি তোলে। আমরা বাধা দিলে তারা পরিকল্পিতভাবে বহিরাগতদের নিয়ে পরীক্ষা শেষে তাণ্ডব চালায়। এতে কলেজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা বিষয়টি প্রশাসন ও বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষকেরা জানান, বেলা একটায় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কলেজের সামনে অবস্থান নেয় একদল শিক্ষার্থী। ফোন করে তারা আরও লোকজন জড়ো করে। বেলা দেড়টার দিকে তারা কলেজে হামলা চালায়। প্রায় ৩০০-৩৫০ শিক্ষার্থী কলেজের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়ে পেছনের ফটক ভেঙে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা কলেজের প্রশাসনিক ভবন, অধ্যক্ষের কক্ষ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং শ্রেণিকক্ষের জানালার কাচ ভাঙচুর করে। অফিস কক্ষের দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। তারা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষকদের বাধায় তা সম্ভব হয়নি।

হামলায় ইটপাটকেলের আঘাতে কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শিকদার হুমায়ুন কবির, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মিজানুর রহমান, স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী ও পথচারীসহ ৮-১০ জন আহত হন। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে তারা বাড়ি ফিরে যান।

ভোলা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের চরফ্যাশন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উত্তেজিত শিক্ষার্থী ও জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের দুটি শেল নিক্ষেপ করা হয়। ফাতেমা-মতিন মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে মোতায়েন করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, চরফ্যাশন সরকারি কলেজ ও ফাতেমা-মতিন মহিলা কলেজের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। আগে দুই কলেজের শিক্ষার্থীরা পরস্পরের কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা দিত। এবার চরফ্যাশন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা ফাতেমা-মতিন কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে, আর ফাতেমা-মতিনের শিক্ষার্থীরা জনতাবাজার ডিগ্রি কলেজে পরীক্ষা দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফাতেমা-মতিন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা পরীক্ষার শুরু থেকেই তাদের সঙ্গে কঠোর আচরণ করছেন। পরীক্ষার সময় কোনো শিক্ষার্থী সময় জানতে চাইলে খাতা নিয়ে কিছু সময় বসিয়ে রাখা হচ্ছে। এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। আজ পরীক্ষা শেষে কয়েকজন শিক্ষার্থী কলেজের জানালার গ্রিল ও কাচে ইট ছুড়ে ভাঙচুর করে।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ জানান, পরীক্ষার প্রশ্ন কঠিন হওয়ার জেরে কিছু শিক্ষার্থী এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষক, উপজেলার কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বসা হয়েছে। সবার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।