শিকাগো বিয়ার্সের প্রধান কোচ বেন জনসন একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য স্থির করেছেন — দলকে এনএফএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্কোরিং দলে পরিণত করা। তার এই ঘোষণা লিগজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ এই লক্ষ্য অর্জন করা সহজসাধ্য নয়।
ঐতিহাসিকভাবে, লিগের সেরা স্কোরিং দলগুলোর মধ্যে ২০০৭ সালের নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টস অন্যতম, যারা নিয়মিত মৌসুমে গড়ে ৩৬.৮ পয়েন্ট তুলেছিল। এছাড়াও ১৯৯৮ সালের মিনেসোটা ভাইকিংস এবং ২০১৩ সালের ডেনভার ব্রঙ্কসের নামও উল্লেখযোগ্য — ব্রঙ্কসরা সেই মৌসুমে ৬০৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে রেকর্ড গড়েছিল। এই দলগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে বিয়ার্সের বর্তমান অবস্থান অনেক পিছনে।
চলতি মৌসুমে বিয়ার্সের প্রতিদ্বন্দ্বীদের দিকেও নজর দিতে হবে। কানসাস সিটি চিফস, যাদের আক্রমণভাগে প্যাট্রিক মাহোমস ও ট্র্যাভিস কেলসির মতো তারকা রয়েছেন, তারা প্রতিটি মৌসুমেই গড়ে ৩০ পয়েন্টের বেশি তুলছে। অন্যদিকে, সান ফ্রান্সিসকো ফোরটি-নাইনার্স এবং ফিলাডেলফিয়া ঈগলসের আক্রমণভাগও দারুণ ছন্দে আছে। বাফেলো বিলসের কোয়ার্টারব্যাক জশ অ্যালেনও নিজের দলকে উচ্চ স্কোরিংয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
বেন জনসনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দরকার একটি শক্তিশালী আক্রমণভাগের কাঠামো, যেখানে কোয়ার্টারব্যাক, রানিং ব্যাক এবং রিসিভারদের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। বিয়ার্সের বর্তমান স্কোয়াডে তরুণ প্রতিভার অভাব নেই, তবে তাদের অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে, নতুন অপরেশনাল কোঅর্ডিনেটরের অধীনে দলটি কত দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে, সেটিই বড় ফ্যাক্টর।
এছাড়াও, ডিফেন্সের দিক থেকে বিয়ার্সকে উন্নতি করতে হবে। কারণ, উচ্চ স্কোরিং দল হওয়ার অর্থ শুধু আক্রমণে রান তোলা নয় — প্রতিপক্ষকে কম স্কোরে আটকানোও জরুরি। গত মৌসুমে বিয়ার্সের ডিফেন্স মাঝারি মানের ছিল, যা এই লক্ষ্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সবমিলিয়ে, বেন জনসনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রশংসনীয়, তবে বাস্তবতা হলো — এনএফএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্কোরিং দল হওয়া কঠিন চ্যালেঞ্জ। দলটিকে একাধিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে, আর তাও আবার একটি মৌসুমে ধারাবাহিকভাবে। আগামী কয়েক সপ্তাহে বিয়ার্সের পারফরম্যান্সই বলে দেবে, তাদের স্বপ্ন কতটা বাস্তবসম্মত।




