হলিউড তারকা ও ব্যবসায়ী কিম কার্দাশিয়ানের লস অ্যাঞ্জেলেসের বাড়িতে চুরির প্রচেষ্টার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ। গত রোববার, ৯ আগস্ট এই ঘটনা ঘটে। ওই সময়ে বাসভবনে উপস্থিত ছিলেন না কিম কিংবা তার চার সন্তান। ক্যালিফোর্নিয়ার হিডেন হিলস এলাকায় অবস্থিত এই বাসভবনের বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৬০ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৪০ কোটি টাকার সমান। বর্তমানে বাড়িটিতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম চলছে।
স্থানীয় সময় বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এর আগে বাড়ির এক নিরাপত্তাকর্মী লক্ষ্য করেন, একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি বাড়ির ভেতর থেকে কিছু জিনিস বের করে একটি গাড়িতে তুলছেন। এরপর ওই ব্যক্তি বাড়ির এক কর্মীর গাড়িতে উঠে এলাকায় ঘোরাঘুরি শুরু করেন। নিরাপত্তাকর্মী তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি নম্বরে খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে আটক করে। পুলিশের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো অস্ত্রও উদ্ধার করা যায়নি।
তবে কিমের প্রতিনিধিরা এই ঘটনা সম্পর্কে কিছুটা ভিন্ন তথ্য জানিয়েছেন। তাদের দাবি, ওই ব্যক্তি বাড়ির মূল অংশে প্রবেশ করতে পারেনি। সংস্কার চলমান থাকায় বাড়িটিতে কিমের কোনো ব্যক্তিগত সামগ্রী রাখা ছিল না। কিম এবং তার সন্তানরা—নর্থ (১৩), সেন্ট (১০), শিকাগো (৮) ও স্যাম (৭)—কয়েক মাস ধরে একটি ভাড়া বাসায় থাকছেন এবং সংস্কারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকবেন।
বাড়িটির সংস্কার অবশ্য নতুন কিছু নয়। ২০১৪ সালে তৎকালীন স্বামী র্যাপার কানিয়ে ওয়েস্টের সঙ্গে থাকার সময় কিম এই বাড়িটি ২০ মিলিয়ন ডলারে কেনেন। ২০১৮ সালে কিমের মা ক্রিস জেনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, বাড়িটির মূল্য প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার। ২০২২ সালে কিম ও কানিয়ে ওয়েস্টের বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হওয়ার পর নিজের কাছে বাড়িটি রাখতে কিম প্রায় ২৩ মিলিয়ন ডলার খরচ করেন। এরপর সন্তানদের নিয়ে সেখানেই বসবাস শুরু করেন তিনি।
বাড়িটির অন্দরসজ্জা নিয়ে অতীতে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। কিম ও কানিয়ে বাড়িটি কেনার পর ব্যাপক সংস্কার করেছিলেন। বিশেষ করে অত্যন্ত মিনিমালিস্ট নকশা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। কেউ প্রশংসা করেছিলেন আধুনিক নকশার, আবার কেউ সমালোচনা করে বলেছিলেন এটি অতিরিক্ত ঠান্ডা ও অনাত্মীয়। কানিয়ে একসময় জানিয়েছিলেন, প্রচলিত ‘ম্যাকম্যানশন’ ধরনের বাড়িটিকে তিনি ‘ভবিষ্যৎধর্মী বেলজিয়ান মঠ’-এর মতো রূপ দিতে চেয়েছিলেন।
এবার সেই বাড়িতেই চলছে আরেক দফা বড় সংস্কার। ২০২৪ সালের নভেম্বরে সংস্কারকাজের ছবি প্রকাশ্যে আসে। পরের বছরের এপ্রিলে আরও ছবি প্রকাশিত হলে বোঝা যায়, কাজটি শুধু অন্দরসজ্জার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বাড়ির সঙ্গে একটি নতুন বিশাল উইং যুক্ত করা হচ্ছে। নতুন অংশটিতে একাধিক কক্ষ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূল বাড়ির অনেক অংশই প্রায় নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে, সাথে যোগ হচ্ছে নতুন দেয়াল, জানালা ও অন্যান্য কাঠামো।
কিমের বাড়ির সংস্কার নিয়ে এর আগে প্রতিবেশীর সঙ্গে আইনি বিরোধও হয়েছিল। ২০২১ সালে এক প্রতিবেশী আদালতে আবেদন করে বাড়ির নিচে কয়েকটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা—আন্ডারগ্রাউন্ড ভল্ট, ভূগর্ভস্থ পার্কিং, ভূগর্ভস্থ ওয়েলনেস সেন্টার এবং আলাদা গার্ডহাউস—তৈরির কাজ বন্ধের চেষ্টা করেন। আদালত অবশ্য সেই আবেদন নাকচ করে দেয়। কিম ও কানিয়ে ওয়েস্টের বিচ্ছেদের সময় বাড়িটির কাজ কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে একটি সূত্র জানায়, নতুন একটি কক্ষ তৈরির জন্য কিম সাময়িকভাবে বাড়ি ছেড়েছেন। তবে পরবর্তীতে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, সংস্কারের পরিধি অনেক বড়।
কিমের সম্পত্তির তালিকায় হিডেন হিলসের এই বাড়িটিই একমাত্র বড় সংযোজন নয়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে নিজের ৪৫তম জন্মদিন উপলক্ষে তিনি একই এলাকায় আরও একটি বাড়ি কেনেন। চার শয়নকক্ষ ও পাঁচ বাথরুমের ওই বাড়িটির জন্য তিনি খরচ করেন প্রায় ৭ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার। নতুন বাড়িটি তার বিদ্যমান সম্পত্তির পাশেই অবস্থিত এবং ভবিষ্যতে সেটিকে মূল সম্পত্তির সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
এদিকে সংস্কারাধীন বাড়িতে চুরির চেষ্টার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে নিয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনার সময় কিম বা তার সন্তানেরা বাড়িতে না থাকায় বড় কোনো বিপদ এড়ানো গেছে। সংস্কার শেষ হলে ৬০ মিলিয়ন ডলারের এই বাড়ি আবার নতুন রূপে ফিরবে। তবে এবার বাড়িটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।




