মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘রইদ’ সিনেমায় সাদুর বউ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছেন নাজিফা তুষি। অনেকে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অভিনয় হিসেবে এই কাজটিকে চিহ্নিত করেছেন। শুটিংয়ের বেশ কিছু স্থিরচিত্র প্রকাশ করে দীর্ঘ এক পোস্টে তুষি জানিয়েছেন, কীভাবে এই চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।
‘সাদুর বউ পর্ব ১’ শিরোনামে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে সিনেমার নানা মুহূর্তের ছবি তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি লিখেছেন, ‘“রইদ” এমন একটা সিনেমা, যে সিনেমাটার এক্সপেরিয়েন্স কয়জন মানুষ এমন কাজের মধ্য দিয়ে জীবনে উপভোগ করতে পারে তা আমি জানি না। তবে আমি অনেক ভাগ্যবান যে আমি সেইটা করতে পেরেছি।’ সাদুর বউকে দর্শক যেভাবে গ্রহণ করেছেন, তার পেছনের গল্পগুলোর কিছুটা শেয়ার করেছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ‘সাদুর বউ হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার নির্মাতা, আমার টিম এবং ওই গ্রামবাসীর।’ গ্রামবাসীদের সরলতার কথা তুলে ধরে তুষি জানান, দৃশ্যে তাঁকে মারার সময়ও তারা বাধা দিত। ‘তারা তখনই ডিরেক্টরের সাথে ঝগড়া করত কিন্তু পাগলিকে মারত না। সাদুকে মারত, কিন্তু পাগলিকে কখনোই মারত না’ — উল্লেখ করেন তিনি।
দর্শকের ভালোবাসা প্রসঙ্গে অভিনেত্রী মন্তব্য করেন, ‘আমি জানি না, অ্যাওয়ার্ড মানুষকে কতটা সমৃদ্ধ করে, আমি জীবনে খুব বেশি একটা অ্যাওয়ার্ড পাই নাই। তবে আমার কাছে মনে হয় যে আপনাদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসাগুলো যেন অস্কার কিংবা কোনো অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার অনুভূতিকেও হার মানায়।’ বের হলে এখন মানুষ তাঁকে চিনতেই পারে না, বরং চরিত্র নিয়ে কথা বলতে আসে — এটিকে তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন। ‘এই অনুভূতিটা আসলে আমার কাছে যেকোনো অ্যাওয়ার্ডের থেকে অনেক বেশি কিছু’ — লিখেছেন তিনি।
নিজের জীবনদর্শন নিয়ে তুষি বলেন, ‘মানুষ বেঁচে থাকে, মানুষ শক্তিশালী হয় শুধু মানুষের ভালোবাসায় আর প্রকৃতির ভালোবাসায়।’ প্রকৃতির ভালোবাসার সঙ্গে মানুষের ভালোবাসার তুলনা টেনে তিনি লেখেন, ‘আমাকে যেভাবে রোদ, বৃষ্টি, আকাশ, বাতাস, গাছপালা ভালোবাসে, তেমনি আমাকে যখন কোনো অচেনা মানুষ এসে শুধুমাত্র তার অনুভূতির কথা বলে, তখন সেটা মনে হয় পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আসল সার্থকতা।’
চরিত্রটি খুঁজে পাওয়ার অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করে তুষি লেখেন, ‘সাদুর বউ এমন একটা চরিত্র, যে চরিত্রটাকে প্রথমে খুঁজতে গিয়ে আমি অনেক হাতড়িয়েছি... অনেক ভয় পেয়েছি, অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছি।’ তবে কাজ শেষে তাঁর উপলব্ধি, ‘আরে পাগলিটা তো আমার ভেতরেই ছিল, আমি কেন খুঁজে দেখলাম না? আর এই পাগলিটা তো আমার মায়ের মধ্যে আছে। পাগলিটা তো আরও অনেকের মধ্যেই আমার আশপাশেই আছে।’ শুটিং শেষে বুঝতে পেরেছেন, আসল পাগলি কোথায় ছিল।
দীর্ঘ পোস্টের শেষে তিনি বলেন, ‘এ রকম নানা অনুভূতির মধ্য দিয়ে আসলে “রইদ”–এর পাগলি কিংবা সাদুর বউ হয়ে ওঠা। আপনাদের ভালোবাসার এই সাদুর বউয়ের কিছু মুহূর্ত আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করলাম।’ লেখা শেষে যোগ করেন, ‘অনেক কথা আমি বলতে চাই কিন্তু সুন্দর করে লিখতে বা বলতে পারি না বলে আমার অনুভূতিটাও ঠিকমতো শেয়ার করতে পারি না আপনাদের সঙ্গে। তবে এই অনুভূতি অনেক গভীর...আপনাদের ভালোবাসার মতো। এই ভালোবাসা জারি থাকুক।’
‘রইদ’ সিনেমায় সাদু চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। তুষির এই আবেগঘন পোস্টে মুগ্ধ হয়ে প্রশংসা জানিয়েছেন অসংখ্য ভক্ত ও অনুসারী। শুটিংয়ের ছবিগুলোর প্রশংসার পাশাপাশি তাঁর অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সহকর্মী অভিনয়শিল্পীরাও।




