চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যাপক খারাপ ফল লক্ষ করা গেছে। ২০২৬ সালে মোট ৩১২টি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি, যা বিগত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৩৪টি। ফলে এবার শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ১৭৮টি।

প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর আওতাধীন ৫৭টি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২২৬টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত ২৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে, যেখানে এককভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রতিষ্ঠান শূন্য পাসের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

আজ সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় দেশের সকল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা নিজ নিজ বোর্ডের পরীক্ষার ফল শিক্ষামন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। এর মধ্য দিয়েই ২০২৬ সালের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হলো।

এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের নয়টি বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন দাখিল পরীক্ষায় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।

ফলাফলের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। এই সংখ্যায় ছাত্রীদের অবস্থান এগিয়ে রয়েছে। পাশাপাশি সামগ্রিক পাসের হার ও জিপিএ–৫ পাওয়ার সংখ্যা উভয়ই গত বছরের তুলনায় কমে গেছে, যা শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

উল্লেখ্য, শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের এই তালিকা শিক্ষা বোর্ডগুলোর পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলো জানিয়েছে, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা অত্যন্ত কম থাকায় কিংবা অনিয়মের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে এবারের ফলাফলে শিক্ষার্থীদের পাসের হার কমে যাওয়ায় এবং শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।