নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অপ্রত্যাশিত ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার দুপুরে ঘাগড়া ইউনিয়নের পানিশানা পূর্বপাড়া গ্রামে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা প্রায় শেষের পথে, তখনই কুড়িগ্রামের কচাকাটা উপজেলা থেকে এক তরুণী তার মামাতো বোনকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। তিনি দাবি করেন, বর হেলাল মিয়ার সঙ্গে তার প্রায় দশ মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছে এবং বিয়ের কথাবার্তাও হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি হেলাল তার ফোন বন্ধ করে দিয়ে অন্য এক তরুণীর সঙ্গে বিয়ে ঠিক করে ফেলেন। এই দাবি জানাজানি হতেই বিয়েবাড়িতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে বিয়ে ভেঙে যায়। পরে বরপক্ষ কনেপক্ষকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বাড়ি ফিরে আসে।

ঘটনার পর রাতেই নিখোঁজ হন বরের বাবা সুরুজ মিয়া (৫০)। পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে থাকেন। রাত ১১টার দিকে বাড়ির পাশে একটি আমগাছে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তারা। স্থানীয় ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান বলেন, ছেলের বিয়ে ভেঙে যাওয়া ও সামাজিক অপমানের ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সুরুজ মিয়া। ধারণা করা হচ্ছে, এই অপমান ও মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সকালে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ বিষয়ে নিহতের ছোট ভাই তারা মিয়া বলেন, আজ দুপুরে তিনি ওই তরুণী ও তার ভাতিজা হেলাল মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামি বর হেলাল মিয়া পলাতক রয়েছেন। তিনি গাজীপুরে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় গাড়িচালকের কাজ করেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিয়ের আসরে প্রেমিকার উপস্থিতি ও দাবির পর বরপক্ষ বিয়ে ভেঙে ফেরত আসে। সামাজিকভাবে অপমানিত বোধ করে সুরুজ মিয়া আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে তারা মনে করেন। এই ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।