মহাকাশ গবেষণায় নতুন এক মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের অত্যন্ত কাছেই পানির অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, চরম বৈরী পরিবেশেও জীবনের মৌলিক উপাদানগুলোর টিকে থাকা সম্ভব।

গ্যালাক্সির কেন্দ্রে থাকা দানবীয় ব্ল্যাকহোলের কাছেই রয়েছে ‘আইআরএস ৩’ নামের একটি তারা। জীবনচক্রের একেবারে শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছে এই নক্ষত্রটি। বর্তমানে এটি শ্বেত বামনে পরিণত হওয়ার পথে, আর নিজের বাইরের স্তরগুলোকে মহাকাশে ছড়িয়ে দিচ্ছে। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের মাধ্যমে ওই বাইরের স্তরগুলোর চারপাশে পানি ও মহাজাগতিক ধূলিকণার উপস্থিতি ধরা পড়েছে।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, আইআরএস ৩ তারাটির আয়ু প্রায় শেষের দিকে। ফলে এর প্রবল নক্ষত্রীয় বাতাস প্রতি সেকেন্ডে ১৫ কিলোমিটার গতিতে তার বাইরের অংশকে মহাকাশে ছুঁড়ে দিচ্ছে। এর ফলশ্রুতিতে তারাটির চারপাশে প্রায় ১০ হাজার অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট জুড়ে ধূলিকণার বিশাল এক আবরণ তৈরি হয়েছে। মনে রাখা দরকার, একটি অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যকার গড় দূরত্বের সমান।

জার্মানির কোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট ফ্লোরিয়ান পাইসকার এই প্রসঙ্গে বলেন, গ্যালাক্সির কেন্দ্রগুলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে প্রতিকূল পরিবেশগুলোর একটি। তবে এখানেও দেখা গেছে, ধূলিকণা তৈরির প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহনশীল। তারাটির জন্ম গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে প্রায় ১৬ আলোকবর্ষ দূরে হলেও পরে এটি ধীরে ধীরে ভেতরের দিকে সরে এসেছে।

আইআরএস ৩ তারাটি সূর্যের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ ভারী এবং এর বয়স আনুমানিক ৭ কোটি ২০ লাখ বছর। পৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ২ হাজার ৮০০ কেলভিন। প্রচণ্ড বিকিরণ ও তাপ সত্ত্বেও এই তারা গ্যালাক্সির কেন্দ্রীয় অঞ্চলে রাসায়নিকভাবে সমৃদ্ধ ধূলিকণা ও পানির সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে, যা সত্যিই বিস্ময়কর।

জেমস ওয়েবের এমআইআরআই যন্ত্রের ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার বিজ্ঞানী ম্যাকারেনা গার্সিয়া মারিন বলেন, এই প্রথমবারের মতো তারাটির একটি ধারাবাহিক মিড-ইনফ্রারেড স্পেকট্রাম সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে সিলিকেটের বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করা গেছে এবং তারাটির প্রকৃত রাসায়নিক গঠন সম্পর্কে জানা গেছে। তবে পানির উপস্থিতি সবচেয়ে উত্তেজনার বিষয়। এটি প্রমাণ করে যে তীব্র বিকিরণ পরিবেশেও আণবিক বস্তু টিকে থাকতে সক্ষম। ফলাফলটি আরও ইঙ্গিত দেয় যে, সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের এত কাছাকাছি থেকেও নক্ষত্ররা তাদের চারপাশে উপাদান পুনর্ব্যবহার করতে পারে। সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট