সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলিউডের পরিচিত মুখ পূজা বেদি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা খোলামেলা জানিয়েছেন। বাগ্দত্ত মানেক কন্ট্রাক্টরের সঙ্গে আট বছর ধরে আংটিবদল হলেও তাঁরা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় যেতে চান না—এই ঘোষণা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতীয় সমাজে বিবাহকে কেবল দুজন মানুষের মিলন হিসেবে দেখা হয় না; এটি দুই পরিবারের মধ্যে স্থায়ী বন্ধনের প্রতীকও বটে। তাই দীর্ঘদিনের বাগ্দানের পরও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ না হওয়ার সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত মনে হতে পারে। কিন্তু পূজা মনে করেন, তাঁদের সম্পর্কের আসল শক্তি কোনো কাগজে-কলমে নয়, বরং একে অপরের প্রতি গভীর বিশ্বাস ও সম্মানের মধ্যে নিহিত।
সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন, বাগ্দানের অর্থই হলো একজন অন্যজনকে জানিয়ে দেওয়া যে তাঁরা সারা জীবন একসঙ্গে থাকার অঙ্গীকার করছেন। সঙ্গী, বন্ধু, প্রেমিক কিংবা পরিবারের সদস্য হিসেবে পাশে থাকার এই প্রতিশ্রুতি তাঁর কাছে যথেষ্ট। এর বাইরে বিয়ে মূলত সরকারি নথিতে একটি স্বাক্ষরমাত্র। তাঁর ভাষায়, যখন সম্পর্কের ভেতরেই প্রতিশ্রুতি বিদ্যমান, তখন সেই সম্পর্ককে বৈধতা দেওয়ার জন্য আর কোনো বাড়তি আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন পড়ে না।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে পূজার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা গভীর প্রভাব ফেলেছে। একসময় তিনি ব্যবসায়ী ফারহান ফার্নিচারওয়ালার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তাঁদের সংসারে জন্ম নেয় দুই সন্তান—মেয়ে আলায়া এফ এবং ছেলে ওমর। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। বিচ্ছেদের সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে বিবাহ সম্পর্কে নতুনভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করেছে। তিনি জানান, তিনি বিবাহ করেছেন, বিচ্ছেদও প্রত্যক্ষ করেছেন। তাই জীবনের এই পর্যায়ে এসে আর নিজেকে কোনো আইনি চুক্তির মধ্যে আবদ্ধ করতে ইচ্ছুক নন। মানেক কন্ট্রাক্টরের জীবনেও একই ধরনের অভিজ্ঞতা রয়েছে; তিনিও আগে বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁরও সন্তান রয়েছে। ফলে দুজনই জীবনের বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন।
আর্থিক দিক থেকেও দুজনের অবস্থান স্পষ্ট। পূজার মতে, তাঁদের দুজনেরই নিজস্ব আয় রয়েছে এবং কেউ কারও ওপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল নন। প্রত্যেকের সম্পদ নিজ নিজ সন্তানের কাছেই যাবে। তাই বিবাহ তাঁদের জীবনে নতুন কোনো নিরাপত্তা বা সুবিধা এনে দেবে না। তবে তিনি বিবাহের বিরোধিতা করেন না; বরং মনে করেন, এটি একটি সুন্দর সামাজিক প্রতিষ্ঠান। যাঁরা নতুন জীবন শুরু করছেন, তাঁদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু প্রত্যেক মানুষের জীবন, অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজন এক নয়—তাঁর নিজের বাস্তবতা তাঁকে ভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছে দিয়েছে।
দুজনের সম্পর্কের শুরুটাও কম আকর্ষণীয় নয়। পূজা ও মানেক একই স্কুল—দ্য লরেন্স স্কুল, সানাওয়ার—এর শিক্ষার্থী ছিলেন। বহু বছর পর স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তাঁদের আবার যোগাযোগ হয়। বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে গভীর সম্পর্কের রূপ নেয়। ২০১৯ সালে একটি হট-এয়ার বেলুনে ভ্রমণের সময় মানেক তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। সেই মুহূর্তের স্মৃতি বর্ণনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পূজা লিখেছিলেন, জীবনের ঝড়ের শেষে রংধনুর মতো সুখ খুঁজে পেয়েছেন। মজার বিষয় হলো, সেই প্রস্তাব গ্রহণ করলেও সময়ের সঙ্গে বিয়ে নিয়ে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। শুরুতে বিয়ের পরিকল্পনা থাকলেও পরে তাঁরা উপলব্ধি করেন, সম্পর্কের জন্য আনুষ্ঠানিক বিয়ে অপরিহার্য নয়। ফলে বাগ্দানই তাঁদের কাছে স্থায়ী প্রতিশ্রুতির প্রতীক হয়ে উঠেছে।
এই সবকিছু মিলিয়ে পূজা বেদি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সম্পর্কের গভীরতা কাগজের স্বাক্ষরে নয়, হৃদয়ের অঙ্গীকারে। দ্য হিন্দুস্তান টাইমসের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এবং নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি এই অবস্থানই বারবার তুলে ধরেছেন।




