খারাপ আবহাওয়ার কারণে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌপথে স্পিডবোট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সমুদ্রবন্দরে আবহাওয়া সতর্কসংকেত থাকা সত্ত্বেও গত শনিবার সকাল ১০টায় সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাট থেকে আট যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে একটি স্পিডবোট। যাত্রীদের মধ্যে কেউ আদালতের শুনানিতে অংশ নিতে, কেউ চিকিৎসার জন্য আবার কেউ বিদেশ যাত্রার মতো জরুরি কাজে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন। ৩ হাজার ২০০ টাকা ভাড়ায় ১০ সিটের একটি স্পিডবোট ভাড়া করে তারা এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা শুরু করেন।

যাত্রা শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই স্পিডবোটটির জ্বালানি শেষ হয়ে যায় এবং ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে পড়ে। উত্তাল সমুদ্রের বড় বড় ঢেউয়ের মুখে নৌযানটি প্রচণ্ডভাবে দুলতে থাকে, যা যাত্রীদের মনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে। যাত্রী নূর হোসেন জানান, ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার পর চালক ও সহযোগী প্রথমে সময় চেয়ে নিলেও পরে স্বীকার করেন যে জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে। চরম জীবনসংকটের মুখে তারা কোস্টগার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও সঠিক অবস্থান জানাতে পারেননি। দীর্ঘ চার ঘণ্টা উত্তাল সাগরে ভেসে অবশেষে বোটটি সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটেরখিলের নিকটবর্তী উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনে গিয়ে থামে।

যাত্রীরা জানান, জোয়ারের উজানমুখী স্রোতের কারণেই তারা তীরে পৌঁছাতে পেরেছেন, অন্যথায় ভাটায় হলে সমুদ্রের গভীরে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। বেলা ২টার দিকে তারা তীরে পৌঁছান এবং স্থানীয়দের সহায়তায় অটোরিকশায় করে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়েতে পৌঁছান। নূর হোসেনের মতে, মৃত্যুভয় কাটিয়ে বেঁচে ফেরার এই অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত আলোড়নকর।

তদন্তে জানা গেছে, স্পিডবোটটি কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটের সাবেক ইজারাদার আবুল কাশেম ওরফে রাজা কাশেমের। ঘটনার সময় নূর হোসেনের পক্ষ থেকে রাজা কাশেমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কেবল বোটটিকে কুমিরা ঘাটে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। পরবর্তীতে জ্বালানি স্বল্পতা ও দায়িত্ব অবহেলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি ফোন কেটে দেন এবং কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিআইডব্লিউটিএ-এর উপপরিচালক (পোর্ট অফিসার) নয়ন শীল জানান, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর বা তার বেশি সতর্কসংকেত থাকলে নৌযানের চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকে। এই ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যাত্রী পারাপার করায় সংশ্লিষ্ট রুট পারমিট বাতিলের সুযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে পর্যাপ্ত জ্বালানি ছাড়া যাত্রা শুরু করা চরম অবহেলার শামিল। চালকের লাইসেন্স ও রুট পারমিটের বৈধতা যাচাই করে মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।