স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল আটটা থেকে রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গে ছয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে। উল্লিখিত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামজনিত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। মৃতদের মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের; সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের একজন করে রয়েছেন। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে উপসর্গজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৮০৯-এ পৌঁছেছে, যেখানে নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯। সব মিলিয়ে এই রোগে মৃতের সংখ্যা এখন ৯০৮।

প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ একদিনে সারা দেশে আরও ১ হাজার ২১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত এ ধরনের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৭ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৮০ জন, যা মোট ১৭ হাজার ৮৮০ জনে উন্নীত হয়েছে। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৫৭ জন রোগী। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৩৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া পরিসংখ্যানে বয়সভিত্তিক কোনো তথ্য অন্তর্ভুক্ত নেই। তবে রোগতত্ত্ববিদরা বলছেন, হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে, যদিও শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের প্রবণতা বেশি। প্রাদুর্ভাবের সময়কালে উপসর্গ নিয়ে যত মৃত্যু ঘটছে, সেগুলোকে হামের মৃত্যু হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, হামে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ৫১ শতাংশের বয়স টিকার যোগ্য সীমা অতিক্রম করেনি। ফলে টিকাদান কর্মসূচি ও শিশুদের সুরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।