বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা ফিফা বাতিল করলেও, বিষয়টিকে সেখানেই শেষ করতে নারাজ ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। তারা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে সতর্ক করে দিয়েছে যে, পুরো বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং সে কারণে সংশ্লিষ্ট কোনো নথি বা ডিজিটাল তথ্য ধ্বংস, মুছে ফেলা বা পরিবর্তন করা যাবে না।
দ্য টেলিগ্রাফের বরাতে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, শুক্রবার পাঠানো ওই চিঠিতে উয়েফা জানিয়েছে, তারা ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ নামে পরিচিত পরিকল্পনাটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, আর্বিট্রেশন বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে অভিযোগ দায়েরের বিষয়ে সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। চিঠির ভাষায় কঠোরতা ফুটিয়ে উয়েফা উল্লেখ করে, ‘আপনি (ইনফান্তিনো) এবং ফিফা অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন, যাতে এই নোটিশে উল্লিখিত সকল নথি ও ইলেকট্রনিকভাবে সংরক্ষিত তথ্য চিহ্নিত করে খুঁজে বের করা ও সংরক্ষণ করা হয়।’ সংস্থাটি আরও হুঁশিয়ার করে দেয় যে, নোটিশ পাওয়ার পর কোনো তথ্য নষ্ট বা আড়াল করা হলে তা প্রমাণ নষ্ট করার অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং এর জন্য আইনিভাবে প্রতিকার, নিষেধাজ্ঞা ও খরচ আরোপের দাবি করা হবে।
চিঠিটি শুধু ইনফান্তিনোর জন্য নয়। ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গার, মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামোর মতো শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছেও প্রাসঙ্গিক তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশ দিতে ফিফাকে বলা হয়েছে। একই ধরনের চিঠি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী পক্ষের সঙ্গে যুক্ত জশুয়া কুশনার, গ্রেগ ম্যাফেই, জেপি মরগান ও ওপেনইকোনমিকসের কাছেও পাঠানো হয়েছে এবং তাদেরও আইনি পদক্ষেপের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফিফা অবশ্য সংবাদমাধ্যমের মন্তব্যের অনুরোধে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ জুলাই ফিফা ঘোষণা করে যে, বিশ্বকাপ ও অন্যান্য বড় আসর পরিচালনার জন্য এফএফই নামে একটি স্বতন্ত্র কোম্পানি গঠন করে এর অংশ বেসরকারি খাতে ছাড়া হবে, যা থেকে সদস্য দেশগুলো লাভবান হবে। এই উদ্যোগকে ‘বিশ্বকাপ বিক্রি’র সাথে তুলনা করে তীব্র বিরোধিতা করে উয়েফা, এবং উত্তর-মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও (এএফসি) এতে সায় দেয়নি। অবশেষে ১ আগস্ট এই বিতর্কিত পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে ফিফা।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম অবশ্য এই পরিকল্পনা বাতিলের পরেও সন্তুষ্ট নন। ডেভন সফরে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না বিশ্ব ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনিই (ইনফান্তিনো) সঠিক ব্যক্তি। যে পরিকল্পনা সামনে আনা হয়েছিল, তা বিশ্বজুড়ে ফুটবল-সংশ্লিষ্ট অনেক মানুষের কাছে আপত্তিকর ছিল। এমন কিছু ঘটার পর আমরা শুধু সামনে এগিয়ে যাব আর সব ভুলে যাব, এটা হতে পারে না।’ তিনি বিশ্বের প্রথম কোনো প্রধান দেশের নেতা হিসেবে ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি তুলেছিলেন, এবং এখনও সেই অবস্থানে অটল আছেন।




