প্রথম শুনলে অবাক মনে হলেও, প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিম সূর্যগ্রহণ তৈরি করার একটি কল্পনাপ্রসূত ধারণা সামনে এসেছে। সাধারণত পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যবর্তী স্থানে চাঁদের অবস্থানের কারণে প্রাকৃতিক সূর্যগ্রহণ ঘটে। কিন্তু কৃত্রিম সূর্যগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, যদি আকাশে এমন কোনো কৃত্রিম বস্তু বা 'কৃত্রিম চাঁদ' স্থাপন করা যায় যা মাঝেমধ্যে সূর্যকে আড়াল করবে, তবেই এই প্রক্রিয়া সম্ভব হবে।

এখন প্রশ্ন জাগতে পারে, এই ধরনের ব্যয়বহুল ও জটিল উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা কোথায়? অনেকে মনে করতে পারেন, সূর্যের রহস্য উন্মোচন বা বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজনে এমন পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। তবে এর পেছনে সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য হতে পারে পৃথিবীর ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা। এর একটি বাস্তব উদাহরণ পাওয়া যায় গত ১১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া সূর্যগ্রহণের সময়, যখন সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি হ্রাস পেয়েছিল। এছাড়া ১৯৯১ সালে মাউন্ট পিনাটুবো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে সূর্য ঢাকা পড়ে গিয়েছিল, যার ফলে সাময়িকভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা কমে গিয়েছিল বলে লক্ষ্য করা গেছে।

তবে বৈশ্বিক উষ্ণতা বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং কমানোর জন্য সূর্যকে কৃত্রিমভাবে ঢেকে দেওয়ার এই পরিকল্পনাটি খুব একটা বাস্তবসম্মত বা কার্যকর মনে হয় না। পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম উপায়ে সূর্যের আলো ঠেকানোর চেয়ে বর্তমান বিশ্বে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনা অনেক বেশি যৌক্তিক। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বের সব দেশ মিলে যে কার্বন নিঃসরণ কমানোর ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, সেটির ওপর জোর দেওয়াই হবে সবচেয়ে সঠিক পথ। কারণ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে পরিবেশ বাঁচানোই দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের একমাত্র উপায়।