যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও ব্যাংকগুলো সম্প্রতি প্রেডিকশন মার্কেট বা ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বাজারগুলোর ওপর তাদের নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এই খাতের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রচলিত তথাকথিত 'মেনশন মার্কেট' নিয়ে গভীর তদন্ত শুরু করেছে কমোডিটি ফিউচার ট্রেডিং কমিশন (সিএফটিসি)।

ঘটনার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত একাধিক সূত্র সিএনবিসিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিএফটিসি বর্তমানে বিভিন্ন প্রেডিকশন বেটিং প্ল্যাটফর্মে চলমান এই বিশেষ ধরনের বাজারগুলো কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তার খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করছে। বিশেষ করে, কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা বা ব্যক্তিকে 'উল্লেখ' (mention) করা হচ্ছে কি না — তা নিয়ে বাজি ধরার যে প্রবণতা সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, সেটিই এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই পদক্ষেপের ফলে পুরো প্রেডিকশন মার্কেট শিল্পেই নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে এই খাতের নিয়মকানুন কঠোর হতে পারে। একইসাথে, ব্যাংকিং খাত থেকেও এই ধরনের প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

প্রেডিকশন মার্কেটগুলো সাধারণত রাজনৈতিক ফলাফল, অর্থনৈতিক সূচক বা অন্যান্য ঘটনার সম্ভাব্যতা নিয়ে বাজি ধরার সুযোগ দেয়। তবে 'মেনশন মার্কেট' নামের নতুন এই ধারা অনেকটাই ভিন্ন — এখানে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বিষয় গণমাধ্যমে কতবার উল্লেখিত হবে, তা নিয়েও বাজি ধরার ব্যবস্থা রয়েছে। এই নতুন পদ্ধতিটি আইনগতভাবে কোথায় দাঁড়িয়াচ্ছে, তা নিয়েই মূলত ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

সিএফটিসির এই পর্যালোচনা প্রক্রিয়া কতদিন চলবে এবং এর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে এটা স্পষ্ট যে, দ্রুত বর্ধনশীল এই খাতটিকে এখন কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই তদন্তের ফলে স্বল্পমেয়াদে প্রেডিকশন মার্কেটগুলোর কার্যক্রমে কিছুটা সংকোচন দেখা দিতে পারে, যদিও দীর্ঘমেয়াদে এটি খাতটির জন্য আরও স্বচ্ছ ও টেকসই পরিবেশ তৈরি করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।