আইনপ্রণেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে মেডিকেয়ারকে ওষুধের দাম নির্ধারণের অনুমতি দিলে এক দশকে করদাতাদের ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সাশ্রয় হবে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস আইন (আইআরএ) এর উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে — অর্থাৎ ওষুধের দাম বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি।

গবেষকদের মতে, মূল্য নিয়ন্ত্রণের এই পদ্ধতি নতুন ওষুধ উদ্ভাবনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। যখন সরকার নির্দিষ্ট ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করে দেয়, তখন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর নতুন ওষুধ গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগের আগ্রহ কমে যায়। ফলে বাজারে প্রতিযোগিতা হ্রাস পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে ওষুধের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

গবেষণাটি ইঙ্গিত দেয় যে স্বল্পমেয়াদে সরকারের নিয়ন্ত্রণে কিছু ওষুধের দাম কমলেও, এর প্রভাব স্থায়ী হবে না। বরং ভবিষ্যতে নতুন ওষুধ বাজারে না আসায় রোগীদের হাতে সীমিত বিকল্প থাকবে এবং দাম নিয়ন্ত্রণের সুবিধা ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল্য নির্ধারণের এই নীতি উদ্ভাবনী চিকিৎসা প্রযুক্তির প্রবেশে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই বেশি দাম গুনতে হবে।

এছাড়াও, গবেষণায় দেখা গেছে, মূল্য নিয়ন্ত্রণের ফলে কিছু কোম্পানি ওষুধের উৎপাদন বন্ধ করে দিতে পারে, যার ফলে বাজারে ওষুধের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এই ঘাটতি পূরণে বিকল্প ওষুধের দাম বেড়ে যেতে পারে। ফলে সরকারের হস্তক্ষেপ যতই জনকল্যাণমুখী হোক না কেন, এর দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রভাব বিপরীতমুখী হতে পারে বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকদের একটি অংশ।

গবেষণার এই ফলাফল নীতিনির্ধারকদের জন্য নতুন চিন্তার খোরাক যোগালেও, বর্তমানে আইআরএ-র আওতায় যে ওষুধের দাম কমানোর প্রক্রিয়া চলছে, তা অব্যাহত থাকবে। তবে সামনে আরও গবেষণা ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই নীতির প্রকৃত প্রভাব নিরূপণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।