জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬-এর প্রস্তুতি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিজ্ঞান বিষয়ের পঞ্চম অধ্যায়ের ওপর ভিত্তি করে একটি বিস্তারিত বহুনির্বাচনি প্রশ্নপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রশ্নপত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য মোট তেরোটি প্রশ্ন সাজানো হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম দুটি প্রশ্ন একটি নির্দিষ্ট উদ্দীপকের আলোকে উত্তর দিতে হবে। উদ্দীপকে বর্ণিত আছে সাইফ সাহেব নামের একজন ফল ব্যবসায়ীর কথা, যিনি কাঁচা ফল পাকানোর জন্য একটি বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে থাকেন। এই ঘটনা থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে ব্যবহৃত পদার্থটির নাম এবং তার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী। প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে ইথিলিনকে সঠিক উত্তর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শাখা কলমে মূল গজানো, পাতা ও মূলে উপস্থিতি এবং চারা গাছের কাণ্ড বৃদ্ধি—এই তিনটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কোনগুলো সঠিক, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
অধ্যায়টির বিষয়বস্তু অনুযায়ী মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও জৈবিক প্রক্রিয়া সম্পর্কিত প্রশ্নও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মস্তিষ্কের গঠন নিয়ে তিনটি পৃথক প্রশ্ন রাখা হয়েছে, যেখানে প্রধান অংশের সংখ্যা, প্রধান অংশের নাম এবং লঘু মস্তিষ্কের অংশের সংখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছে। সঠিক উত্তরে বলা হয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের প্রধান অংশ তিনটি এবং এর মধ্যে সেরিব্রাম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। লঘু মস্তিষ্কের ক্ষেত্রে তিনটি অংশ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশের হরমোন সম্পর্কিত বিষয়বস্তু থেকেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ফ্লোরিজেন নামক উপাদানটি পত্রে উৎপন্ন হয় এবং এটি উদ্ভিদে ফুল ফুটতে সাহায্য করে—এই তথ্যের ভিত্তিতে একটি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন সাজানো হয়েছে। এছাড়া উদ্ভিদের বৃদ্ধিকে প্রভাবিতকারী উপাদানের মধ্যে আলো ও অভিকর্ষকে সঠিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে কীটপতঙ্গকে এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়নি।
মানবদেহের রেচন তন্ত্র ও ছাঁকনি অঙ্গ হিসেবে পরিচিত বৃক্ক নিয়ে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। বৃক্ককে মানবদেহের ছাঁকনি, মূত্র তৈরির কারখানা এবং রেচন তন্ত্রের প্রধান অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রশ্নে উপস্থাপন করা হয়েছে। বর্জ্য পদার্থ তৈরির ক্ষেত্রে যকৃতের ভূমিকা সম্পর্কেও একটি প্রশ্ন রাখা হয়েছে। রেচন অঙ্গ হিসেবে ফুসফুস, চর্ম ও বৃক্ক—এই তিনটির নাম একসঙ্গে সঠিক উত্তরে দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্নপত্রের প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক বিকল্প উত্তরসহ একটি তালিকা প্রদান করা হয়েছে। প্রথম থেকে ত্রয়োদশ প্রশ্ন পর্যন্ত উত্তরগুলো যথাক্রমে ‘খ’, ‘গ’, ‘খ’, ‘ক’, ‘খ’, ‘ঘ’, ‘গ’, ‘ক’, ‘ক’, ‘ক’, ‘ক’, ‘খ’ ও ‘ঘ’ হিসেবে নির্ধারিত। এই উত্তর তালিকা শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করতে সহায়তা করবে।
এই শিক্ষামূলক সামগ্রীটি প্রস্তুত করেছেন মো. ফারুক হোসেন, যিনি ঢাকার মতিঝিল এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংক উচ্চবিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। প্রকাশনার তারিখ হিসেবে ১৮ আগস্ট ২০২৬ উল্লেখ আছে। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক সম্পদ হতে পারে, যা পরীক্ষার আগে বিষয়ভিত্তিক ধারণা স্পষ্ট করতে সাহায্য করবে।




