রবিবার রাতে সম্প্রচারিত 'হাউজ অব দ্য ড্রাগন' সিজন ৩-এর সপ্তম পর্ব 'দ্য ড্রাগন ইন উইন্টার' দর্শক ও সমালোচকদের মতে এ মৌসুমের সেরা পর্ব হিসেবে উঠে এসেছে। পর্বটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অ্যাকশন, টানটান উত্তেজনা ও চমকপ্রদ মোড়ে পূর্ণ। বিশেষ করে ড্রাগনের দৃশ্যগুলো টেলিভিশনের পর্দায় আগে কখনো দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।
পর্বটির কেন্দ্রীয় আকর্ষণ ছিল রিনা, ডেমন, রিনিরা ও অ্যাডামের মধ্যে চার ড্রাগনের মুখোমুখি সংঘর্ষ। ডেমন তার মেয়ে রিনাকে সিপস্টিলার পিঠে চড়ে দেখতে পান এবং তাকে লুকিয়ে থাকার অনুরোধ জানান। রিনা জানান, তিনি আর বিচ্ছিন্নভাবে জীবনযাপন করতে চান না। কিন্তু সিপস্টিলারের দেখা পাওয়ার খবর ইতিমধ্যে রানির কানে পৌঁছেছে। রিনিরা ও অ্যাডাম ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডেমন রিনাকে পায়ে হেঁটে পালাতে বলেন। সিপস্টিলার প্রায় ডেমনকে পুড়িয়ে ফেলার পর অন্যান্য ড্রাগন এসে পরিস্থিতি বদলে দেয়। চার ড্রাগনের লড়াইয়ে সিপস্টিলার গুরুতর আহত হয় এবং শেষ পর্যন্ত রক্তাক্ত অবস্থায় সরে যায়। ডেমন তার ড্রাগনকে তাড়া করতে নিষেধ করেন।
অন্যদিকে, ল্যারিস, আইগন ও টাইল্যান্ড ল্যানিস্টারের কাহিনীও এই পর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তারা রুকস রেস্ট থেকে পালিয়ে সরু সাগর পাড়ি দেওয়ার জন্য জাহাজের সন্ধানে ছিলেন। পথে তারা শরণার্থীদের স্রোতের মুখোমুখি হন। টাইল্যান্ড মনে করেন রিনিরা আসলে তার পিছনে লেগেছে, কারণ তিনি কোষাগারের সোনা লুকিয়ে রেখেছেন। আইগন মর্যাদার সঙ্গে মরতে চান এবং পিছু হটতে অস্বীকার করেন। টাইল্যান্ডও তার পাশে দাঁড়ানোর প্রতিজ্ঞা করেন। ল্যারিস অবশ্য পঙ্গুত্বের অজুহাত দেখিয়ে সরে যান।
রাতে রিনিরার লোকেরা এসে আইগন ও টাইল্যান্ডের কাছে আনুগত্য দাবি করে। আইগন নিজেকে বৈধ রাজা ঘোষণা করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তখন পেছনের গাছপালা থেকে একটি ড্রাগন বেরিয়ে আসে। এটি ছিল সানফায়ার, যা আগে মৃত বলে ধারণা করা হয়েছিল। আইগন 'ড্রাকারিস!' বলে চিৎকার করলে সানফায়ার আগুন ছুঁড়ে শত্রুদের পুড়িয়ে দেয়। কীভাবে সানফায়ার পুনরুজ্জীবিত হলো তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে ড্রাগনটি গুরুতর আহত হয়ে হাইবারনেশনে ছিল এবং আইগনের সাহস তাকে জাগিয়ে তুলেছে।
লর্ড ওরমন্ড হাইটাওয়ার এই পর্বে তার কৌশলী চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি কর্লিস ভেলারিয়নের আঙুল কেটে তার অবৈধ পুত্র অ্যালিনের কাছে পাঠান। তিনি রিনিরার একজন ড্রাগন রাইডার আলফ দ্য হোয়াইটকে নিজের দলে টেনে নিয়েছেন। ওরমন্ড তাকে ড্রিফটমার্কের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা দেওয়ার ক্ষমতা তার নেই। আলফকে সম্মান ও স্বাধীনতার লোভ দেখিয়ে তিনি দলের দুর্বলতা কাজে লাগিয়েছেন। এতে গ্রিন দল এখন আরও শক্তিশালী হয়েছে।
তবে এই পর্বের কিছু দিক সমালোচিত হয়েছে। আইমন্ডের হারেনহলে সময় নষ্ট করা এবং আলসেন্টের নিজের ছেলেকে বিষ দেওয়ার চক্রান্ত দর্শকদের কাছে বিরক্তিকর মনে হয়েছে। রিনিরার মাইসারিয়ার সঙ্গে সম্পর্কও অস্বস্তিকর বলে উল্লেখ করেছেন অনেকে। হেলেনার দর্শনীয় ক্ষমতা অবশ্য প্রশংসিত হয়েছে, তবে রিনিরার তার সৎ বোনের প্রতি ব্যবহার নেতিবাচকভাবে দেখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে এই পর্বটি সিজনের সেরা এবং প্রথম সিজনের পর থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী পর্ব বলে মনে করছেন সমালোচকরা। শেষ পর্বে আরও রক্ত ও আগুনের প্রত্যাশা করছেন দর্শকরা।

