পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিথারি হাকিমপুর গ্রামের বাসিন্দা সাহিদা ফকিরের কাছে ভারতীয় নাগরিকত্বের সব ধরনের নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁকে 'বাংলাদেশি' চিহ্নিত করে জোরপূর্বক বাংলাদেশের সীমান্তে পাঠিয়ে দিয়েছে ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বর্তমানে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আবুল বাসারের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তার।
নিজের ঘটনার বর্ণনায় ৩৯ বছর বয়সী সাহিদা ফকির জানান, তিনি দীর্ঘদিন স্বামী জুম্মান ফকির ও দুই সন্তানকে নিয়ে মুম্বাইয়ে বসবাস করতেন। ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় বাসার নিকটবর্তী বাজার থেকে রাতের খাবার কিনে ফেরার পথে সাদাপোশাকধারী কিছু লোক নিজেদের পুলিশ বলে তাকে আটক করে। সেই সময় তার মোবাইল ফোন, আধার কার্ড এবং কেনা খাবার কেড়ে নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তী পাঁচ দিন কোনো রকম আদালতের শুনানি বা তদন্ত ছাড়াই তাকে আটক রেখে 'অবৈধ বিদেশি' হিসেবে চিহ্নিত করে বিএসএফ-এর কাছে সমর্পণ করা হয়। এরপর বিমানে করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নিয়ে প্রায় ২০ জনের সাথে স্থলপথে ঘুরিয়ে অবশেষে সীমান্ত পাড়ি করিয়ে দেওয়া হয়।
সাহিদা ফকিরের দাবি, তাঁর পিতা আমুনউদ্দিন গাজী ও মাতা মাজিদা বিবি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্বরূপনগর বিধানসভার ভোটার ছিলেন। নিজের নামে ভোটার পরিচয়পত্র, প্যান কার্ড এবং স্থায়ী আবাসিক ঠিকানা সম্বলিত নথি থাকা সত্ত্বেও তার সঙ্গে এই অন্যায় হয়েছে। বর্তমানে নিজ দেশে ফিরতে না পারার যন্ত্রণা প্রকাশ করতে গিয়ে বারবার তার চোখে জল আসে।
মানবিক দায়বদ্ধতায় তাকে আশ্রয় দেওয়া কৃষক আবুল বাসার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি বেনাপোল থেকে চিকিৎসার কাজ সেরে ফেরার পথে এক অসহায় নারীকে কাঁদতে দেখে ছেন দেন। কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, পুলিশ ও বিজিবি উভয়ই ওই নারীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে।
ভারতীয় মানবাধিকার সংস্থা মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) এই বিষয়ে ভারত সরকারের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রসচিব এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছে। সংগঠনের সেক্রেটারি কিরীটী রায় স্বাক্ষরিত ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, নাগরিকত্বের শক্তিশালী প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কোনো বিদেশি আদালত নয় এই কাজ হয়েছে, যা ভারতের সংবিধান, আইন ও সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের সরাসরি লঙ্ঘন। চিঠিতে সাহিদা ফকিরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার সাথে জড়িতদের শাস্তি এবং এ ধরনের ঘটনা বন্ধে দিগদর্শন জারির আবেদন জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মনুষ্যধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচেরও অভিযোগ, ন্যূনতম আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম বাঙালি সহ বহু ভারতীয়কে জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। বিজিবির তথ্য মতে, ২০২৫ সালের ৭ মে থেকে ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে বিএসএফ প্রায় ২,৪৭৯ জনকে পুশ ইন করলে তাদের মধ্যে ১২০ জনই ছিলেন ভারতীয় নাগরিক। সম্প্রতি সীমান্তে পুশ ইন এর চেষ্টা পুনরায় বেড়েছে।




