২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে পৃথিবীর আকাশে উজ্জ্বল অগ্নিগোলক বা ফায়ারবলের সংখ্যা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। বিশেষত মার্চ মাসে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক উজ্জ্বল মহাজাগতিক পাথর ছুটে যেতে দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের মাঠ, জঙ্গল এমনকি কিছু বাড়ির ছাদ ভেঙে শোবার ঘরেও পড়েছে এই পাথর। আমেরিকান মিটিওর সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রথম তিন মাসে গড়ে ২০টি ফায়ারবল দেখার রেকর্ড থাকলেও এ বছর একই সময়ে অন্তত ৫০ জন মানুষ দেখেছেন এমন ফায়ারবলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০-এ। এর মধ্যে ৩৩টি ফায়ারবলের সঙ্গে কান ফাটানো শব্দও ছিল, যা সংগঠনটির ইতিহাসে একটি রেকর্ড। উদাহরণস্বরূপ, ১৭ মার্চ ওহাইওর আকাশে যে উল্কাটি বিস্ফোরিত হয়, তার শক্তি ছিল ৩৭০ টন টিএনটির সমান। এ ঘটনার পর অপেশাদার উল্কা সংগ্রাহক মাইক হ্যাংকি ওহাইও থেকে একটি ছোট উল্কাপিন্ড সংগ্রহ করেন, যাকে তিনি 'আস্ত একটি ভিনগ্রহের বস্তু' বলে অভিহিত করেছেন। তবে এই হঠাৎ বৃদ্ধির কারণ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। নাসার মার্শাল স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের কর্মকর্তা বিল কুক স্বীকার করেছেন, ঘটনাটি অস্বাভাবিক। নাসার গবেষক আলথিয়া মুরহেডের মতে, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে উজ্জ্বল উল্কার সংখ্যা ১০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক, যদিও এর সঠিক কারণ অজানা। তিনি আরও বলেছেন, ২০১০ সালের পর থেকে মানুষের রিপোর্ট করার হার বেড়েছে; স্মার্টফোন, সিসি ক্যামেরা ও ড্যাশক্যামের কারণে আকাশের ঘটনা আর চোখ এড়ায় না। তার দৃষ্টিতে, এই ফায়ারবলের সংখ্যা দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার মধ্যে খুব অস্বাভাবিক নয়। অন্যদিকে, কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উল্কা-পদার্থবিদ পিটার ব্রাউন উল্কাবৃষ্টির সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, উল্কাবৃষ্টির সময় পাথরগুলো একই দিক থেকে ও প্রায় একই গতিতে আসে, কিন্তু মার্চের ফায়ারবলগুলোর কোনো নির্দিষ্ট দিক বা গতির মিল ছিল না। পাশাপাশি এত বড় পাথর উল্কাবৃষ্টিতে দেখা যায় না। তবে মাইক হ্যাংকি নাসার ব্যাখ্যা মানতে রাজি নন। তাঁর দাবি, মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির ট্রেন্ড ২০২০ সালের পর থমকে গেছে, আর মার্চে সোসাইটির ইতিহাসে সর্বাধিক রিপোর্ট জমা পড়েছে। তিনি নিশ্চিত, এটি প্রকৃতই তিন-চার সপ্তাহের জন্য বড় উল্কাপিন্ডের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ার ফল। এপ্রিল আসতে আসতে ফায়ারবলের ছড়াছড়ি কমে যায়। অধিকাংশ জ্যোতির্বিদই মনে করেন, এটি মহাজাগতিক ধ্বংসাবশেষের স্বাভাবিক একটি জোয়ার-ভাটা মাত্র। পৃথিবী মাঝেমধ্যেই এমনভাবে কিছু বাড়তি উল্কার ডেলিভারি পেয়ে যায়। সৌরজগৎ অত্যন্ত জটিল এবং অনেক ঘটনাই এলোমেলোভাবে ঘটে। গত মার্চে হাজার হাজার ভাগ্যবান মানুষ সেই মহাজাগতিক আতশবাজির সাক্ষী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে উজ্জ্বল অগ্নিগোলকের সংখ্যা দ্বিগুণ, রহস্যের জট খোলেনি বিজ্ঞানীরা
গত মার্চে পৃথিবীর আকাশে অস্বাভাবিক সংখ্যক উজ্জ্বল উল্কা বা ফায়ারবল দেখা গেছে। নাসা ও অপেশাদার জ্যোতির্বিদদের মধ্যে এই বৃদ্ধি আসল নাকি পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধির ফল তা নিয়ে বিতর্ক চলছে।




