রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় পদ্মা নদীতে জেলেরা প্রতিদিন জাল ফেললেও মঙ্গলবার সকালে তাদের জালে ধরা পড়ে বিরল প্রজাতির মাছ। পদ্মা নদীর বাহির চর দৌলতদিয়া এলাকার কলাবাগান অংশে স্থানীয় এক জেলের জালে প্রথমে ওঠে আসে ১০ কেজি ৮০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় ঢাঁই মাছ। প্রায় একই সময় মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা মালোচি এলাকায় জেলে পরান হালদারের জালে ধরা পড়ে আরেকটি ঢাঁই মাছ, যার ওজন ছিল প্রায় ৩ কেজি। এই দুটি মাছই বিপন্ন প্রজাতির বলে পরিচিত।

বড় মাছটি দৌলতদিয়া ফেরিঘাট বাজারের ইউনুস মণ্ডলের আড়তে তোলা হলে সেখানে উপস্থিত ক্রেতাদের মধ্যে নিলাম শুরু হয়। দরকষাকষির পর সর্বোচ্চ দরদাতা হন দৌলতদিয়া ঘাট বাজারের মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ। তিনি কেজি প্রতি ৫ হাজার ৩০০ টাকা হিসেবে মোট ৫৭ হাজার ২৪০ টাকায় মাছটি কিনে নেন। অন্যদিকে ছোট মাছটি আনু খাঁর আড়তে তোলা হয় এবং সেখানেও শাহজাহান শেখ কেজি প্রতি ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে ১০ হাজার ৫০০ টাকায় মাছটি নিজের করে নেন। এভাবে মোট ৬৭ হাজার ৭৪০ টাকায় মাছ দুটি তার দখলে আসে।

মাছ কেনার পর শাহজাহান শেখ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মাছের ছবি পোস্ট করে বিক্রির চেষ্টা চালান। পাশাপাশি পরিচিত ব্যবসায়ী ও সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে থাকেন। কিছুক্ষণের মধ্যে চট্টগ্রামের বাসিন্দা ও সৌদি আরবপ্রবাসী জাহাঙ্গীর চৌধুরী মাছ দুটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ক্রেতার আগ্রহ দেখে দরকষাকষি শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত বড় মাছটি কেজি প্রতি ১০০ টাকা লাভে ৫৮ হাজার ৩২০ টাকায় এবং ছোট মাছটি কেজি প্রতি ১৫০ টাকা লাভে ১০ হাজার ৯৫০ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। মঙ্গলবার দুপুরের পরপরই মাছ দুটি চট্টগ্রামের ওই ক্রেতার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, ঢাঁই মাছ বর্তমানে বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। পদ্মা নদীতে এ মাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। তাই এত বড় আকারের মাছ জালে ওঠায় এলাকায় কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মাছ দুটি তুলনামূলকভাবে ভালো দামেও বিক্রি হয়েছে বলে তারা জানান। এই ঘটনা পদ্মা নদীর জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় মৎস্য বাণিজ্যের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।