বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে গত শুক্রবার দুপুরে এক বাঘের উপস্থিতি টের পান বনকর্মীরা। শ্যালা নদীর দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত এই কেন্দ্রের বন অফিসের সামনের ফাঁকা জায়গায় বাঘটিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ওই মুহূর্তটি ধারণ করেন কর্মীরা। ভিডিওতে দেখা যায়, নদীর পাশ ধরে এসে বাঘটি কিছুক্ষণ চারপাশ পর্যবেক্ষণ করে, পেছনে ফিরে তাকায় এবং পরে উত্তর দিকের জঙ্গলের দিকে হেঁটে চলে যায়।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সম্প্রতি সুন্দরবনের আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্থাপিত ক্যামেরা ট্র্যাপগুলোতে নতুন করে আরও তিনটি বাঘের ছবি ধরা পড়েছে। এসব ক্যামেরায় বাঘ, চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, বনমোরগ, বন্য শূকর, মেছো বাঘ ও উদ্বিড়ালের মতো প্রাণীর ছবিও সংগৃহীত হয়েছে। টহলের সময় বনকর্মীরা আগের তুলনায় বেশি বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। শরকির খালসংলগ্ন বনাঞ্চলে স্থাপিত একটি ক্যামেরা ফাঁদে সম্প্রতি একটি বাঘের ছবি শনাক্ত করা হয়েছে, যা লোকালয়ের অত্যন্ত কাছে অবস্থিত।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই এই ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের দক্ষিণে একটি বাঘিনীকে অবমুক্ত করেছিল বন বিভাগ। ৪ জানুয়ারি বৈদ্যমারী ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন শরকির খালসংলগ্ন বন থেকে ফাঁদে আটকা অবস্থায় আহত ওই বাঘিনীটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে শুক্রবার দেখা পাওয়া বাঘটি সেই বাঘিনী কিনা তা নিশ্চিত নয়। চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক দ্বীপন চন্দ্র দাসের মতে, গায়ের ডোরাকাটা দাগ বিশ্লেষণ করে মনে হচ্ছে এটি ভিন্ন একটি বাঘিনী। তিনি আরও জানান, বাঘিনীটিকে যে অংশে ছাড়া হয়েছে সেখানে পর্যাপ্ত খাবার রয়েছে, ফলে তার শিকার বা টিকে থাকা নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই।

২০২১ সালে সুন্দরবনে নতুন করে চারটি পর্যটনকেন্দ্র তৈরির অংশ হিসেবে আন্ধারমানিক বনাঞ্চলে ওয়াচ টাওয়ার, ফুট ট্রেইলসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হয়। বর্তমানে এই এলাকায় বাঘের বিচরণ আগের তুলনায় বেশি নজরে পড়ছে বলে জানিয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা।