গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় নিখোঁজের প্রায় দুই সপ্তাহ পর এক বয়স্ক ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নিজমাওনা গ্রামে। নিহত ব্যক্তির নাম শামসুল হক (৮০)। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চন্নাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর পারিবারিক কারণে ২০২১ সালে তিনি নিজমাওনা গ্রামে মেয়ের বাড়ির পাশে জমি ক্রয় করে সেখানে বসবাস শুরু করেন।

গত ৩ জুলাই থেকে শামসুল হক নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। একই দিনে শ্রীপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁরা। এরপর ১৫ জুলাই বুধবার বেলা একটার দিকে স্থানীয় এক কিশোর মাছ ধরার সময় গ্রামের একটি ঝোপের ভেতর কঙ্কালটি দেখতে পায়। সে আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানালে এলাকাবাসী সেখানে ভিড় জমায়। কঙ্কালের পাশে পড়ে থাকা একটি পাঞ্জাবি দেখে তাদের সন্দেহ হয়। এরপর তারা থানায় খবর দেয়।

সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান শামসুল হকের জামাতা জাকির হোসেন। তিনি ওই পোশাক দেখে নিশ্চিত হন যে কঙ্কালটি তাঁর শ্বশুরের। পুলিশও ঘটনাস্থলে এসে কঙ্কালটি উদ্ধার করে। শ্রীপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা জানান, উদ্ধারকৃত কঙ্কালটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শামসুল হক একা থাকতেন। তাঁর স্ত্রী কিছুদিন আগে মারা যাওয়ার পর তিনি মেয়ের কাছাকাছি থাকার জন্যই ওই জমি কিনে সেখানে একটি ছোট ঘর তৈরি করে বসবাস করছিলেন। ৩ জুলাই সকালে তাঁকে শেষবারের মতো দেখতে পান প্রতিবেশীরা। এরপর আর তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের সময় তিনি কী পরিধান করেছিলেন, তা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানিয়েছিলেন। সেই বিবরণের সঙ্গেই মিলেছে উদ্ধারকৃত পাঞ্জাবির রং ও নকশা।

পুলিশের ধারণা, ঘটনাটি পরিকল্পিত কোনো অপরাধ নাকি দুর্ঘটনা—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। বর্তমানে তদন্ত চলছে এবং জড়িত কেউ থাকলে আইনের আওতায় আনা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এলাকাবাসী এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছে।