টাইফুন মাইসাকের প্রভাবে চীনের বিস্তীর্ণ এলাকায় চলমান ভারী বৃষ্টিপাত ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের রূপ নিয়েছে। এ বছরের প্রথম ঘূর্ণিঝড়টির ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে দেশটির পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত ২৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১১ জন।
মঙ্গলবার গানসু প্রদেশের তানচাং কাউন্টির পার্বত্য উপত্যকায় সংঘটিত ভূমিধসের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত বন খামারের অস্থায়ী শ্রমিকরা কাজ করার সময় হঠাৎ করে ধসে পড়ে পাহাড়ের ঢাল। ঘটনাস্থলেই মাটির নিচে চাপা পড়েন কমপক্ষে ৩৩ জন। তাদের মধ্যে ২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের মধ্যে কেউ বেঁচে আছেন কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
সিনহুয়া সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তল্লাশি কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ করা হয়েছে। তবে নিখোঁজ ও হতাহতের সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত নয়। ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। খাড়া ও দুর্গম এলাকা হওয়ায় উদ্ধার কাজে বেশ বেগ পেতে হয়।
এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান এই ধরনের দুর্যোগের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অসংখ্য ছোট-বড় নদী ও খাড়া উপত্যকা বেষ্টিত এই অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে প্রায় প্রতিবছরই ভূমিধস ও বন্যার ঘটনা ঘটে। তবে টাইফুন মাইসাকের কারণে সৃষ্ট অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
শুধু গানসু নয়, দক্ষিণের গুয়াংসি অঞ্চলও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় এখন পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন ১১ জন। বিভিন্ন গ্রাম ও শহর প্লাবিত হওয়ায় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাবারের ডিঙি নৌকা ও অন্যান্য উদ্ধারযান ব্যবহার করে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
টাইফুন মাইসাক এ বছর চীনে আঘাত হানা প্রথম ঘূর্ণিঝড়। এটি সাধারণত গ্রীষ্মের শুরুতে দেখা দেয় এবং ব্যাপক বৃষ্টিপাত ঘটায়। চলতি সপ্তাহে এর প্রভাবে চীনের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। ফলে আরও ভূমিধস ও বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গানসুর ভূমিধসে হতাহতের সংখ্যা যোগ হওয়ায় চলতি সপ্তাহে চীনে প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। রাস্তাঘাট ও অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংসের খবরও পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কাজ অব্যাহত রেখেছে স্থানীয় প্রশাসন। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




