বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলেও গ্রাহকদের কাছে ভুতুড়ে বিল আসছে, এবং সেই বিল নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তাঁর মতে, তদারকির অভাবে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। সরকার তদন্ত ও পুনর্যাচাইয়ের কথা বললেও দায়িত্বপ্রাপ্তরা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

গোলাম পরওয়ার আরও অভিযোগ করেন, সরকার এখন সংবিধান ও জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তিকর কাজে ব্যস্ত, বিরোধী দলকে দমনে নতুন ন্যারেটিভ তৈরিতে ব্যস্ত। কিন্তু দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকট নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। তিনি বলেন, দেশে দৈনিক ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২১৫ কোটি ঘনফুটেরও কম, ফলে প্রতিদিন ১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে, আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ কমেছে এবং দাম বাড়ছে।

গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নতুন তেল ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন আগের সরকার গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ করেনি, বর্তমান সরকারও করছে না। এর ফলে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় রান্নার কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ায় মানুষের ব্যয় বেড়েছে। সংকটের কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, তাঁদের কাছে শত শত ভুতুড়ে বিলের কপি আছে। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে প্রধানমন্ত্রী ও বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী বিদ্যুতের সার্ভিস চার্জ না নেওয়ার অঙ্গীকার করলেও তা এখনও কাটা হচ্ছে। প্রিপেইড মিটারে ডিমান্ড চার্জ কাটাকে তিনি ‘ডিজিটাল চাঁদাবাজি’ বলে আখ্যায়িত করেন। মোমেন আরও বলেন, অর্থবছরের শেষে জুন মাসে সিস্টেম লস কম দেখানোর জন্য অনুমানের ভিত্তিতে কম বিল করা হয়, কিন্তু জুলাই মাসে মিটার দেখে করলে অনেক বেশি বিল আসে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন সরকারকে প্রতিবছর ৬৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে, এবং মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি গার্মেন্টস শিল্পের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র—সেটি খতিয়ে দেখার দাবি জানান।

গোলাম পরওয়ার জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস–সংকট দূর করার জন্য প্রধান গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন বাড়ানো, বিনিয়োগ, দুর্নীতি বন্ধ, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করা এবং বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নতুন সরকারের পাঁচ মাসে মানুষের ক্ষোভ, বঞ্চনা ও জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কর্মসূচি নিয়ে মন্ত্রী-এমপিরা প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন এবং তাদের ‘ভুয়া’ ডাক শুনতে হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার উপস্থিত ছিলেন।