সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ব্যবহৃত ভাষাকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক সংস্কৃতি হিসেবে গণ্য করা যায় না। সোমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘আবৃত্তি উৎসব-২০২৬’ এবং আন্তবিভাগ নজরুল আবৃত্তি প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই ঘটনার পর থেকে কিছু ব্যক্তি রাজনীতিতে যে ভাষা ও আচরণ নিয়ে এসেছেন, তা গভীর উদ্বেগের কারণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতি একটি মর্যাদাপূর্ণ বিষয়, যা সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূল চালিকাশক্তি। সেখানে অশোভন বা অশালীন ভাষার কোনো স্থান নেই। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন খাতে প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে—অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও রাজনীতি। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক সংকট বিদ্যমান। গত দুই দশকে অনেক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়েনি। এই সংকট কাটিয়ে একটি কর্মক্ষম রাষ্ট্র গঠন করা সহজ কাজ নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মাত্র পাঁচ মাস হলো সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যেই নানা মহল থেকে সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল নিয়ে তেমন আলোচনা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘মাইর তো ওরা খায় নাই, খাইছি আমরা’—এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন যে বর্তমান সরকারই প্রকৃত সংকট মোকাবিলার বোঝা বহন করছে।

মাদক, শিক্ষা ও সামাজিক সংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের নানা অঞ্চলে মাদকের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। শিক্ষা ও বাণিজ্যসহ প্রায় প্রতিটি খাতেই সমস্যা বিদ্যমান। তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব সমস্যা রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়; বরং সময় নিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের সভাপতি আবিদুল হক রাহাত। উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. রইছ উদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক সাবিনা শারমীন এবং শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইমরানুল হক। এছাড়া আবৃত্তি সংসদের ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা কামরুল ইসলাম জুয়েলও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কবি আবদুল হাই শিকদারকে ‘কবি সম্মাননা’ এবং আবৃত্তিশিল্পী মুন্সী মো. রেজাউল হোসেইন টিটোকে ‘আবৃত্তি শিল্পী সম্মাননা’ প্রদান করা হয়।