বুধবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি টেলস্ট্রার নেটওয়ার্কে বড় ধরনের বিভ্রাট শুরু হয়। এর জেরে ট্রেন পরিষেবা বাতিল, মোবাইল নেটওয়ার্ক অকার্যকর এবং জরুরি কল সংযোগহীন হয়ে পড়ে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর সব ধরনের সেবা পুনরায় চালু হয় বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা মাইকেল অ্যাকল্যান্ড।
তিনি ক্ষমা চেয়ে বলেন, এই বিভ্রাটের পেছনে কোনো সাইবার হামলা নেই; বরং সিডনি ও মেলবোর্নের ডেটা সেন্টারে সময় রক্ষণকারী সার্ভারের সফটওয়্যার ত্রুটিই এর কারণ। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই বিভ্রাটকে 'গভীরভাবে উদ্বেগজনক' বলে অভিহিত করেছেন। অ্যাকল্যান্ড আরও জানান, বিভ্রাটের সময় জরুরি সেবায় কল করা গ্রাহকদের কল্যাণ পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে ছয়জনের তাৎক্ষণিক সহায়তার প্রয়োজন ছিল।
বিভ্রাটের সময় জরুরি কল অন্য মোবাইল অপারেটরে স্থানান্তরের ব্যাকআপ ব্যবস্থা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কার্যকর ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে প্রায় তিন ডজন জরুরি কল সংযোগ হয়নি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। মূল ট্রিপল-জিরো জরুরি সেবা ব্যবস্থা সচল থাকলেও যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস জানিয়েছেন, দেশের টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা অস্ট্রেলিয়ান কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া অথরিটি এই বিভ্রাটের তদন্ত করবে।
শুধু মোবাইল ও জরুরি সেবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি; ভিক্টোরিয়ার সব আঞ্চলিক ট্রেন সার্ভিস বাতিল করা হয় এবং নিউ সাউথ ওয়েলসের কিছু আঞ্চলিক রুটেও বিঘ্ন ঘটে। জাতীয় মালবাহী পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি টাইরো অ্যাপ ব্যবহারকারী প্রায় ৮০ হাজার ব্যবসা পেমেন্ট সিস্টেম ডাউন থাকায় বিপাকে পড়ে।
প্রসঙ্গত, গত সেপ্টেম্বরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম টেলিকম অপারেটর অপটাসের সিস্টেম বিভ্রাটের কারণে অর্ধেক দেশের মানুষের জরুরি সেবা ১৩ ঘণ্টা বন্ধ ছিল, যা তিনজনের মৃত্যুর কারণ হয়েছিল। সেই ঘটনার পর অপটাসকে জরিমানাও করা হয়েছিল। টেলস্ট্রা বিভ্রাটের ঘটনা আবারও অস্ট্রেলিয়ার টেলিকম অবকাঠামোর দুর্বলতা ও জরুরি সেবার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।




