প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমছে বিশ্বজুড়ে। ক্রমবর্ধমান ছাত্রঋণ, চাকরির বাজারে অনিশ্চয়তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উত্থানের মধ্যে অনেকে ভাবছেন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি কি সত্যিই ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য অপরিহার্য? এই প্রেক্ষাপটে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছেন এরিক ফ্রান্সিয়া, যিনি ছয়টি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা ও বিক্রি করেছেন এবং বর্তমানে ইউনিপ্লে নামক একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী।
মাত্র ১৮ বছর বয়সে কলেজের পথ বেছে না নিয়ে নিজের কোম্পানি গড়ার সিদ্ধান্ত নেন ফ্রান্সিয়া। তার মতে, সেই সময়ে সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হয়েছিল। এখন তিনি মনে করেন, এটি ছিল তার জীবনের সঠিক পথ। তার মতে, বর্তমান যুগে ডিগ্রি আর চাকরির নিশ্চয়তা দেয় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যা শেখানো হয় এবং কর্মক্ষেত্রে যা প্রয়োজন, তার মধ্যে ফারাক বাড়ছেই। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এআই-এর প্রভাবে ৫৯ শতাংশ কর্মীর পুনঃদক্ষতা প্রয়োজন হবে।
নিজের পাঁচ দশকের কর্মজীবন থেকে তিনি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরেছেন। প্রথমত, পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অনিবার্য। তিনি বলেন, প্রযুক্তি যেভাবে দ্রুত বদলাচ্ছে, তাতে প্রতিটি নতুন প্রযুক্তি কিছু দক্ষতা অপ্রাসঙ্গিক করলেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে। তাই পরিবর্তনকে হুমকি নয়, বরং সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। দ্বিতীয়ত, তিনি কর্মীদের স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার ওপর জোর দেন। ইউনিপ্লে এআই নির্ভর হলেও তারা সক্রিয়ভাবে মানুষ নিয়োগ করছে। তিনি একাডেমিক সনদের চেয়ে সাইড প্রজেক্ট এবং শেখার আগ্রহ বেশি মূল্যায়ন করেন। তার মতে, যে কর্মীরা নিজেদের মতো করে কাজ করতে পারেন, তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং কোম্পানির লক্ষ্য তাদের কাছে বিমূর্ত থাকে না।
তৃতীয়ত, ব্যস্ততাকে (এনগেজমেন্ট) ব্যবসার প্রধান মেট্রিক হিসেবে চিহ্নিত করেন ফ্রান্সিয়া। তার ভাষায়, একঘেয়েমির চেয়ে বড় হুমকি আর কিছু নয়। কর্মীদের কাজে মজা থাকা উচিত, কারণ মজা কর্মক্ষমতা বাড়ায়, বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে না। তাই ম্যানেজমেন্ট রিভিউকে টিম ডেমোতে রূপান্তরিত করা, প্রেজেন্টেশনের বদলে ইন্টারঅ্যাকটিভ কিছু তৈরি করা—এমন উদ্যোগ তিনি গ্রহণের পরামর্শ দেন। চতুর্থত, শিক্ষার সংস্কৃতি রক্ষা করাকে ব্যবসার সবচেয়ে বড় সম্পদ বলে মনে করেন তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর আমেরিকান প্রতিষ্ঠানগুলো কর্পোরেট শিক্ষায় ১০২.৮ বিলিয়ন ডলার খরচ করলেও তা সেভাবে কাজে আসেনি। প্রয়োজন এমন শিক্ষা যা প্রযুক্তির গতির সমান তালে চলবে। পঞ্চম ও শেষ শিক্ষাটি হলো—কখনোই একজন নবীনকে কম মূল্যায়ন করা উচিত নয়। তার মতে, সবচেয়ে কম অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা প্রায়শই সবচেয়ে কৌতূহলী ও দ্রুত খাপ খাওয়াতে পারেন। তিনি ইন্টার্নদের কাছ থেকে শেখার আহ্বান জানান, কারণ তারাই প্রতিষ্ঠানের অপ্রচলিত নিয়মগুলো চিহ্নিত করতে পারেন।
ফ্রান্সিয়ার মতে, কলেজের পাঠক্রম কখনোই একটি কোম্পানি চালানোর বাস্তব শিক্ষা দিতে পারে না। তার এই অভিমত ফরচুন ম্যাগাজিনের কমেন্টারি বিভাগে প্রকাশিত হয়েছে, যা লেখকের ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।




