রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক নীতি সংলাপে শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশ এবং জলবায়ু সুরক্ষার বিষয়ে সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার ‘শৈশবের জন্য করণীয়: শৈশব এবং ধরিত্রীকে সুরক্ষিত রাখা’ শীর্ষক এই আয়োজনে নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাঁরা বলেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ ও বিকাশবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রকৃতি-পরিবেশ সংরক্ষণ একে অপরের সাথে জড়িত। শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে পৃথিবীকেও সুরক্ষিত রাখতে হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক (বেন) এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগী হিসেবে ছিল আরনেক এবং সমষ্টি মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। চ্যানেল আই এ অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন উল্লেখ করেন, শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশে বিনিয়োগকে ব্যয় নয়, বরং দেশের ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা উচিত। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।
বেনের সহসভাপতি মাহমুদা আক্তার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে জানান, শিশুর জন্মের পর প্রথম এক হাজার দিন তার শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, পরিচর্যা ও প্রাথমিক শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, শিশুদের সুরক্ষা ও বিকাশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাঁর মতে, আজকের শিশুর প্রতি যত্ন এবং প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণই ভবিষ্যতের নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গঠন করবে।
উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা মত প্রকাশ করেন যে, শিশুদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, সুরক্ষা ও মানসিক বিকাশকে সমন্বিতভাবে দেখা প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শিশুদের ঝুঁকি বাড়ছে উল্লেখ করে তারা শিশু-কেন্দ্রিক জলবায়ু অভিযোজন এবং টেকসই উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, শিশুদের কল্যাণ ও পরিবেশ সুরক্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় শিশুদের অধিকার ও পরিবেশ সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনায় অংশ নেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শঙ্কর, ইউনেসকোর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সুজান ভাইজ, প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের পরিচালক সৈয়দ কামরুল ইসলাম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব, সিনারগোজের কান্ট্রি ডিরেক্টর এশা হুসেইন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর এস এম রহমতউল্লাহ ভূঁইয়া এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ডিরেক্টর-ইনফ্লুয়েন্সিং, ক্যাম্পেইন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস নিশাত সুলতানা। এছাড়া অনলাইনে যুক্ত হয়ে বেন–এর চেয়ারপারসন মনজুর আহমেদ আলোচনায় অংশ নেন।


