বালির একটি আদালত ২৬ বছর বয়সী সুইস নাগরিক লুজিয়ান আন্দ্রিন জগ্রাগেনকে পবিত্র ধর্মীয় উৎসবকে অপমান করার দায়ে এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় ছুটির দ্বীপ বালিতে ন্যেপি—যা নীরবতার দিন হিসেবে পরিচিত—এর সময় বিধিনিষেধ অমান্য ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়। মার্চ মাসে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক ক্ষোভের মুখে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

বর্তমানে মুছে ফেলা ওই ভিডিওতে জগ্রাগেনকে ন্যেপির সময় একটি খালি সৈকতে হেঁটে যেতে দেখা যায়। সেখানে তিনি দৃশ্যটিকে ‘পাগলাটে’ বলে বর্ণনা করেন। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ওই ভিডিওর ক্যাপশনে অশ্লীল শব্দ ব্যবহারের অভিযোগও উঠে আসে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে বালিনিজ জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে।

ন্যেপি বালির বার্ষিক হিন্দু উৎসব। সাধারণত পর্যটকে মুখরিত এই দ্বীপটি ওই দিনে সম্পূর্ণ নীরবতায় ডুবে যায়। স্থানীয়রা ঘরের ভেতরেই অবস্থান করেন এবং উচ্চ শব্দ করা থেকে বিরত থাকেন। ধর্ম নির্বিশেষে—পর্যটকসহ—দ্বীপে অবস্থানকারী সবার জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য। ওই দিন বিমানবন্দর সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয় এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়, এমনকি বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিরুৎসাহিত করা হয়। স্থানীয়রা সাধারণত উৎসবের আগে প্রয়োজনীয় মুদিখানা সংগ্রহ করে ঘরে থাকার প্রস্তুতি নেন।

চলতি বছরের ১৯ মার্চ ন্যেপি পালিত হয়। ওই দিন জগ্রাগেন বাইরে বের হওয়ার নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করেন। আদালতের রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, অভিযুক্তের কর্মকাণ্ড বালিনিজ জনগণের অনুভূতিতে গভীর আঘাত করেছে, তাদের বিশ্বাসকে আহত করেছে এবং জনমনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে—এমনটি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বরাতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে।

বিচার প্রক্রিয়ায় জগ্রাগেন নিজের পক্ষ থেকে জানান, তিনি ন্যেপির বিধিনিষেধের ব্যাপকতা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং বালিনিজ জনগণকে অপমান করার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না। আদালতে তিনি গভীর অনুতাপ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, তিনি যা করেছেন তার জন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত এবং বালিনিজ জনগণের কাছে ক্ষমা চান—এমনটি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগেও ন্যেপির বিধিনিষেধ অমান্য করার কারণে বিদেশি পর্যটকদের আটক বা দেশ থেকে বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, মহামারির পর বালির পর্যটন খাত উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধার লাভ করেছে। গত বছর দ্বীপটি রেকর্ড সংখ্যক—প্রায় ৭০ লাখ—আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীকে স্বাগত জানিয়েছে।

তবে পর্যটনের এই উত্থানের সঙ্গে স্থানীয়দের জন্য উদ্বেগজনক আচরণও বৃদ্ধি পেয়েছে। ধর্মীয় স্থানে আপত্তিকর কর্মকাণ্ড, বিশেষ পর্যটক এলাকা গড়ে তোলা এবং যানবাহন আইনের অবমাননার ঘটনায় বিদেশিদের বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কর্তৃপক্ষ দ্বীপের পর্যটকদের ওপর নজরদারি আরও জোরদার করার এবং উচ্ছৃঙ্খল বিদেশিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার জানিয়েছে।